শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়ার ন’টি আসনেই লড়াইয়ের হুঙ্কার দিলেও শেষমেশ নিজেদের রণকৌশলে কিছুটা বদল আনল ঝাড়খন্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চা (জেএলকেএম)। দলীয় সূত্রের খবর, জেলার সবকটি আসনে তারা প্রার্থী দিচ্ছে না। এমনকি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে তাদের প্রার্থী দেওয়ার কথা থাকলেও সেই সমীকরণ বদলেছে। তবে যে আসনগুলিতে তারা প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সেখানে রাজনৈতিক ছক ভেঙে রীতিমতো চমক দিয়েছে টাইগার জয়রাম মাহাত-র দল।
জয়পুর আসনে প্রার্থী না হতে পেরে গত সপ্তাহেই তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন স্থানীয় রাজপরিবারের সদস্য দিব্যজ্যোতি সিং দেও। তাঁর রাজনৈতিক অতীত বেশ চমকপ্রদ। একুশের বিধানসভাতেও টিকিট না পেয়ে তিনি তৃণমূল-বিক্ষুব্ধ হিসেবে নির্দলে দাঁড়িয়েছিলেন। সেবার শাসকদলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মুখ বাঁচাতে এই দিব্যজ্যোতিকেই সমর্থন করতে বাধ্য হয়েছিল তৃণমূল। এবারও তিনি ঘাসফুলের টিকিটের জোরালো দাবিদার ছিলেন। কিন্তু শিকে না ছেঁড়ায় সম্প্রতি ঝালদার তুলিনে জয়রাম মাহাত-র মেগা জনসভায় গিয়ে তাঁর হাত ধরেই জেএলকেএম-এর পতাকা তুলে নেন দিব্যজ্যোতি। তখনই জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জয়পুর আসনে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করল মোর্চা।
অন্যদিকে, বাঘমুন্ডি বিধানসভায় জেএলকেএম-এর টিকিটে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন মনোজকুমার মাহাত। ৪৮ বছর বয়সী এই প্রার্থীর রাজনৈতিক অতীত পুরুলিয়ার ভোটের বাজারে বড়সড় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। কারণ, ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কট্টর আরএসএস কর্মী। সংঘ পরিবারের এই প্রাক্তন সদস্য ২০২৫ সালে ঝাড়খন্ডের ডুমুরির জনপ্রিয় বিধায়ক টাইগার জয়রাম মাহাত-র হাত ধরে জেএলকেএম দলে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি দলের রাজ্য সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। অযোধ্যা পাহাড়ের সাহারজুড়ি গ্রামের এই ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করে জেএলকেএম যে বাঘমুন্ডির আদিবাসী ও কুড়মি ভোটব্যাঙ্কের এক বড় অংশে থাবা বসাতে চলেছে, তা একবাক্যে স্বীকার করছে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহল।









Post Comment