insta logo
Loading ...
×

ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরিচয়, বাংলায় শংসাপত্র নেই, সিপিএম কি মানবাজারে পাল্টাবে প্রার্থী?

ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরিচয়, বাংলায় শংসাপত্র নেই, সিপিএম কি মানবাজারে পাল্টাবে প্রার্থী?

নিজস্ব প্রতিনিধি , মানবাজার:

মানবাজারে সিপিআইএম সোনামনি টুডুকে প্রার্থী পদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে কি অটল থাকবে? তেসরা এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সোনামণিকে মনোনয়ন করতে দেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পেলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করতে পারেন রিটার্নিং অফিসার। এই পরিস্থিতিতে দোটানায় সিপিএম।

সোনামণির ঝাড়খণ্ডে বাপের বাড়ি। বান্দোয়ানে তাঁর শ্বশুরালয়। ২০২৪ সালে ঝাড়গ্রাম লোকসভায় প্রার্থী ছিলেন সোনামণি। কিন্তু সেটা ছিলো লোকসভা নির্বাচন। আর এবার বিধানসভা। এখানে নিয়ম কিছুটা আলাদা। মানবাজার বিধানসভা আসন তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। নিজেকে
সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সদস্য দাবি করলেও পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জনজাতি শংসাপত্র না থাকায় মনোনয়নপত্র গ্রহণে জটিলতায় পড়েছিলেন এই কেন্দ্রে সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থী সোনামণি টুডু ওরফে সোনামণি মুর্মু। শেষ পর্যন্ত মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারিণী ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। বিয়ের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ানের আসনপানি গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও সাঁওতালদের তফসিলি জনজাতি হিসেবে স্বীকৃতি রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই তিনি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে চান।

আবেদনকারিণীর আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে জানান, সোনামণি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জনজাতির শংসাপত্র পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে। তিনি অনুরূপ একটি মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। ‘রাজেশ অর্জুনভাই পটেল বনাম মহারাষ্ট্র সরকার’ মামলায় বোম্বে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, গুজরাটের ভিল জনজাতির সদস্য হলেও মহারাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তফসিলি জনজাতি হিসেবে তাঁর আবেদন বিবেচনা করতে হবে। সেই নজির টেনে এই মামলাতেও একই ধরনের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন জানান তিনি।

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জানান, সংশ্লিষ্ট রাজ্যে এসটি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়তে হলে সেই রাজ্যের বৈধ শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। সোনামণির কাছে পশ্চিমবঙ্গের এমন কোনও শংসাপত্র নেই। ফলে তাঁকে এসটি প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

রাজ্যের তরফেও একই যুক্তি পেশ করা হয়। জানানো হয়, শুধুমাত্র অন্য রাজ্যের শংসাপত্র থাকলেই পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জনজাতির সুবিধা পাওয়া যায় না। সোনামণির আবেদনপত্রও সঠিকভাবে পূরণ হয়নি এবং প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি রয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও নির্দেশ দেন, আবেদনকারিণী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। তবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে রিটার্নিং অফিসারের যাচাইয়ের উপর। যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় নথি পেশ করতে পারলে তবেই তাঁকে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হবে, নচেৎ মনোনয়ন বাতিলও হতে পারে।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমার শেষ দিন। সেই প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে বলে আদালত জানায়। পাশাপাশি স্পষ্ট করা হয়েছে, এই নির্দেশ ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে নজির হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তাহলে নথির হেরফেরে যদি সোনামণির আবেদন বাতিল হয়, সেক্ষেত্রে মানবাজারে বামফ্রন্ট প্রার্থী থাকবেন না? এখন পন্থা দুটি। এক, সোনামণির পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রার্থী করা। দুই, একজন ডামি প্রার্থীকে মনোনয়ন করানো। ৭ তারিখ স্ক্রুটিনিতে যদি বাতিল হয় সোনামণির মনোনয়ন, তখন ডামি প্রার্থীকে প্রতীক দেবে সিপিএম। আর মনোনয়ন গ্রাহ্য হলে ৯ তারিখ প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ তারিখের মধ্যে ডামি প্রার্থী নিজ প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেবেন। এখন কোন পথে মানবাজারে হাঁটবে সিপিএম?

Post Comment