নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঘমুন্ডি :
অযোধ্যা পাহাড়ে বনভূমি রক্ষা না কি আদিবাসীর বাঁচার অধিকার—এই প্রশ্নকে সামনে এনে উত্তাল হল পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের উসুলডুংরি এলাকা। এক আদিবাসী বৃদ্ধার মাথা গোঁজার স্বপ্ন মাঝপথে থমকে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হল গোটা গ্রাম।
পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন উসুলডুংরি গ্রামে সরকারি আবাস যোজনার ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক আদিবাসী বৃদ্ধা। বন দফতরের দাবি, যে জমিতে ঘর তৈরি হচ্ছে সেটি বনভূমি। সেই কারণে অর্ধেক নির্মিত ঘরের কাজ বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। অথচ গ্রামবাসীদের দাবি, ওই বৃদ্ধার পরিবারে আর কেউ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সেখানে বসবাস করে আসছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং একাধিক দাবিকে সামনে রেখে উসুলডুংরির বন সুরক্ষা কমিটির শতাধিক বাসিন্দা বুধবার ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী বাদ্যযন্ত্র সহকারে মিছিল করে হাজির হন অযোধ্যা রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে। গেটের সামনে জমায়েত হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তারা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অযোধ্যা পাহাড় জুড়ে বনভূমির উপর বড় বড় বেআইনি নির্মাণ, রিসর্ট ও নানা বাণিজ্যিক কাজ হলেও সেদিকে চোখ বন্ধ করে থাকে বন দফতর। অথচ পাহাড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা আদিবাসীদের ক্ষেত্রে কড়া আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। কোথাও ঘর ভাঙা, কোথাও আবার ঘর তুলতেই বাধা—এই দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, বন রক্ষা জরুরি, কিন্তু সেই বন রক্ষার অজুহাতে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা চলতে পারে না। বনাধিকার আইন কার্যকর করে আদিবাসীদের জমির স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
শেষ পর্যন্ত কয়েকজন প্রতিনিধি অযোধ্যা রেঞ্জ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে ৭ দফা দাবি সহ একটি স্মারকলিপি জমা দেন। দাবি মানা না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন গ্রামবাসীরা।
অযোধ্যা পাহাড়ের বুক জুড়ে এই লড়াই শুধু একটি ঘরের নয়—এই লড়াই আদিবাসীর অস্তিত্ব, অধিকার ও সম্মানের।











Post Comment