insta logo
Loading ...
×

জতুগৃহ পুরুলিয়ায় অগ্নিনির্বাপনে ৬ দপ্তরকে নিয়ে টাস্ক ফোর্স, একদিনে পুরুলিয়া শহরের ১১ হোটেল অভিযান, ধরা পড়লো বড়সড় গলদ

জতুগৃহ পুরুলিয়ায় অগ্নিনির্বাপনে ৬ দপ্তরকে নিয়ে টাস্ক ফোর্স, একদিনে পুরুলিয়া শহরের ১১ হোটেল অভিযান, ধরা পড়লো বড়সড় গলদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

পর্যটন শহর পুরুলিয়ার হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র সামনে এল প্রশাসনিক অভিযানে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে গঠিত বিশেষ টাস্ক ফোর্স সোমবার একযোগে পুরুলিয়া শহরের ১১টি হোটেলে অভিযান চালিয়ে দেখে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আগুন মোকাবিলার ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই।

রাজ্যের নির্দেশিকা মেনে সম্প্রতি পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি-র তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকের পরই এই টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লক্ষ্য একটাই—হোটেল, লজ ও বড় প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নিরাপত্তা বিধি আদৌ মানা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই টাস্ক ফোর্সে কোনও একক আধিকারিক নয়, বরং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরকে একত্র করা হয়েছে। যেমন—
দমকল বিভাগ, স্থানীয় থানার পুলিশ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম, পূর্ত ( বিদ্যুৎ),
পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত।যেখানে অভিযান, সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরাই উপস্থিত থাকছেন।

সোমবারের অভিযানে দেখা যায়, দেশবন্ধু রোডের একটি চারতারা হোটেল ছাড়া বাকি সব হোটেলেই অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। কোথাও ফায়ার পাম্প নেই, কোথাও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা অকার্যকর, আবার কোথাও বৈদ্যুতিক সুরক্ষা নিয়ম মানা হয়নি।জেলা পরিষদ ও পুরুলিয়া পুরসভার ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত একটি বিশাল হোটেলে গিয়ে আধিকারিকরা কার্যত হতবাক। আগুন মোকাবিলার কোনও ন্যূনতম ব্যবস্থাই নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কীভাবে ওই হোটেল ছাড়পত্র পেল?পুরুলিয়া শহরের সাহেব বাঁধ এলাকায় একটি চারতারা হোটেলে মাত্র একটি ফায়ার পাম্প থাকায় কর্তৃপক্ষকে তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দেওয়া হয় আরও দুটি বসানোর। দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, বড় হোটেলের ক্ষেত্রে তিনটি ফায়ার পাম্প বাধ্যতামূলক, যা ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে। নর্থলেক রোড এলাকায় একটি জি প্লাস ফোর হোটেলে একটিও ফায়ার পাম্প নেই—যা আইনত গুরুতর লঙ্ঘন।একইভাবে বি টি সরকার রোড ও বাইপাস সংলগ্ন একাধিক হোটেলও পরীক্ষায় ফেল করেছে। একইভাবে বি টি সরকার পুরুলিয়া দমকলের অফিসার ইনচার্জ গৌতম লায়েক স্পষ্ট জানিয়েছেন
“একদিনে ১১টি হোটেল পরিদর্শন করেছি। অধিকাংশই অগ্নিনির্বাপনে অযোগ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে ত্রুটি না মেটালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই অভিযান শুধু শহরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনে জেলার অন্যান্য মহকুমা শহর এমনকি ব্লক এলাকাতেও টাস্ক ফোর্সের অভিযান চলবে। পর্যটনের উপর নির্ভরশীল পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে এই অভিযান একদিকে যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা দিচ্ছে। তেমনই প্রশাসনের কড়া মনোভাবও স্পষ্ট করছে অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত নয়।

Post Comment