সুইটি চন্দ্র, অযোধ্যা পাহাড়:
শীতের কনকনে ঠান্ডা। পাহাড়ি হাওয়ায় একেবারে শিরশিরে ছোঁওয়া। আর তার মাঝেই একটাই প্রশ্ন,
‘সেলফি তুলেছিস তো?’
পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় এখন সেলফি স্টুডিও!
এবার পাহাড়ে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যেই নয়। আবেগ আর আদিখ্যেতার সেলফিতেও
নজর কাড়বে। তবে যতই আদিখ্যেতা হোক না কেন
পর্যটন তো বাড়বে। তাতেই আশাবাদী পুরুলিয়া
বনবিভাগ। বড়দিনে অযোধ্যা রেঞ্জ কার্যালয়ের পাশে ওই সেলফি পয়েন্ট গড়ে তোলা হয়েছে। যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ। ছিলেন এডিএফও সায়নী নন্দী সহ বিভিন্ন রেঞ্জ আধিকারিকরা।
অযোধ্যা পাহাড়ের সেভাবে
সেলফি পয়েন্ট ছিল না। তাই
পর্যটকদের অদম্য সেলফি প্রীতির কথা মাথায় রেখেই পুরুলিয়া বনদপ্তরের নতুন চমক ‘আই লাভ অযোধ্যা ফরেস্ট’। তবে এটা একটা নাম নয়, এটা একটা অনুভূতি।
এই সেলফি পয়েন্টে ঢুকলেই চোখে পড়বে বসার জন্য বেঞ্চ, দেওয়াল জুড়ে পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি,
আদিবাসী জীবনধারা,
বনভিত্তিক শিল্পকলার রঙিন প্রতিচ্ছবি। শীতের রোদে দাঁড়িয়ে মোবাইল উঁচু করে কেউ একা, কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে একটা, আরেকটা, আরেকটা…. আরও একটা, এটাই লাস্ট….। সেলফির ক্লিকেই যেন অযোধ্যা পাহাড়ে জমে উঠুক নিউ ইয়ার ফেস্টিভ্যাল। বড়দিনে সমগ্র জেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষের ভিড় হয়েছিল। এই বিপুলসংখ্যক মানুষজনের মধ্যে যেমন পর্যটক ছিলেন।
তেমনই ছিলেন পিকনিক পার্টিরা।
শুধু বড়দের নয়, খুদেদের মন জয় করতেও বড়দিনে
পিছিয়ে ছিলো না বনদপ্তর। কোটশিলা বনাঞ্চলের মুরগুমা আর অযোধ্যা বনাঞ্চলের বামনিতে হাজির ছিল সান্তাক্লজ আর মিকি মাউস। উপহার হাতে পেয়ে খুশি শিশুরা, আর সঙ্গে মিলেছে প্লাস্টিক বর্জন ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা।
এই বাড়তি ভিড় সামাল দিতে সতর্ক প্রশাসনও।
ঝালদা মহকুমা পুলিশের উদ্যোগে পর্যটন কেন্দ্রে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র।
অযোধ্যা পাহাড়ে ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা। বিপজ্জনক এলাকায় সেলফি না তোলার সতর্কতা। কারণ, সেলফি হোক স্মৃতির জন্য—ঝুঁকির জন্য নয়। পরিসংখ্যান বলছে, বড়দিনে শুধু অযোধ্যা সার্কিটেই প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক। জয়চন্ডী পাহাড়, গড় পঞ্চকোট, বড়ন্তি, বোরো, দুয়ারসিনিতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। নতুন বছরেও
আরও একটু বাড়িয়ে বললে
চলতি শীতের মরশুমেই
অযোধ্যাকে ঘিরে আবেগ আর অনুভূতিতে জমজমাট হবে এই জঙ্গলমহলের পর্যটন। আর সেই অনুভূতি
আর আবেগকে ফ্রেমবন্দি করার জন্য অযোধ্যা পাহাড়ে লেখা থাকছে একটাই কথা—
‘আই লাভ অযোধ্যা ফরেস্ট’!
যা এই বিস্তীর্ণ জঙ্গল বাঁচানোর বার্তা। সঙ্গে বন্যপ্রাণ। আর তাদের হাত ধরেই এই সভ্যতা!











Post Comment