insta logo
Loading ...
×

রেল দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কীভাবে ব্যবস্থা? মহড়া হলো আনাড়া স্টেশনে

রেল দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কীভাবে ব্যবস্থা? মহড়া হলো আনাড়া স্টেশনে

সুইটি চন্দ্র, আনাড়া:

স্টেশনে সাইরেনের শব্দ।
ছুটে চলা উদ্ধারকারী দল।
ট্রেনের একটা কামরা আরেকটার উপরে। লক্ষ্মী বারে দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের
পুরুলিয়ার আদ্রা ডিভিশনের আনাড়া স্টেশনের ছবিটা ছিল এমনই।

না, কোনও দুর্ঘটনা নয়।
তবে বিপদ হলে আগাম প্রস্তুতি কতটা সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত হতে পারে তারই এক পূর্ণাঙ্গ মহড়া হয়ে গেলো
আনাড়া স্টেশনে। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের আদ্রা ডিভিশনের উদ্যোগে আনাড়া রেল স্টেশনে আয়োজিত এই মক ড্রিলে তুলে ধরা হয়, হঠাৎ ঘটে যাওয়া বড়সড় রেল দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। যাতে উদ্ধারকাজের প্রতিটি ধাপ—যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা, ট্র্যাক পরিষ্কার, নিরাপত্তা বলয় তৈরি সবকিছু কার্যকরভাবে অনুশীলন করা যায়।
এই মহড়ায় অংশ নেয় রেলওয়ে আরপিএফ, জিআরপি, স্বাস্থ্য দফতর, দমকল বাহিনী ও এনডিআরএফ। সমন্বিত তৎপরতায় কীভাবে দ্রুততম সময়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সেটাই ছিল মূল লক্ষ্য। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’-র ব্যবস্থাপনায় অর্থাৎ দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টায় দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এই মহড়ায় ছিলেন
ডিআরএম মুকেশ গুপ্তা সহ অন্যান্য শীর্ষ রেল আধিকারিকরা।
ডিআরএম মুকেশ গুপ্তা বলেন, “রেল দুর্ঘটনার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ধরনের মক ড্রিল আমাদের বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায় এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলছি।”

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপদের সময় প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মেডিক্যাল রেসপন্স টিমের সক্রিয় ভূমিকা এই তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিভাবে কন্ট্রোল রুম সক্রিয় হবে, কীভাবে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করা হবে এবং কীভাবে উদ্ধারকারী বিশেষ ট্রেন মোতায়েন করা হবে—তারও পূর্ণাঙ্গ মহড়া হয় এদিন।

Post Comment