নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের চাকদা গ্রামে বহুদিন ধরে চলা জমি নিয়ে আইনি বিতর্কের নিষ্পত্তি হলো কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে উক্ত বিতর্কিত জমি থেকে কবর দেওয়া বেশ কয়েকটি মৃতদেহ তুলে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়।
১৯৫৫ সাল থেকে দ্যা মাল্টিভার্সিটি অযাচক আশ্রমের নামে সরকারি নথিতে ওই জমির মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করেন আশ্রম কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে তারা আরও দু’একর জমি ক্রয় করেন। তবে এই অংশটিতে পরবর্তীতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ কবরস্থান তৈরি করেন। আশ্রম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
আশ্রমের ম্যানেজার রাজেন্দ্র প্রসাদ চ্যাটার্জী বলেন,“এই জমি সরকারিভাবে আমাদের নামে নথিভুক্ত। বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল পাইনি। অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হই।”
অন্যদিকে, এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি, এই জমিতে তাঁদের প্রায় ২০০ বছরের দখল রয়েছে এবং তাঁদের কয়েক প্রজন্মের মৃতদেহ এই জমিতে কবর দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়ার বড় মসজিদের সভাপতি ওয়াহিদ আনসারী বলেন, “এই কবরস্থানে আমাদের পূর্বপুরুষদের দেহ সমাহিত আছে। আমরাও আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি।”
গত ১২ অক্টোবর এই জমিতে আবারও একটি দেহ কবর দেওয়া হয়, যা আশ্রম কর্তৃপক্ষ আদালতের নজরে আনেন। তারপর ১২ নভেম্বর আদালত আশ্রমের পক্ষে রায় দিয়ে জমি দখল মুক্ত করার নির্দেশ দেন।
পুরুলিয়া জেলা আদালতের আইনজীবী শুভজিৎ সরকার বলেন, “আদালত আশ্রমের বৈধ মালিকানাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জমি দখল মুক্ত করা হয়েছে।”
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশ, প্রশাসনিক আধিকারিক, আশ্রম কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ঘটনার ভিডিওগ্রাফিও করা হয়।











Post Comment