
তাপস কুইরি, বাঘমুন্ডি:
যে শিল্পী প্রতিমা তৈরি করুক না কেন। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির তুনতুড়ির দেওয়ান বাড়ির দুর্গা পূজার প্রতিমার রূপ হয় একই। বংশানুক্রমিক ভাবে একই পরিবারের মৃৎ শিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পী বদলেছে। কিন্তু মায়ের রূপ এক-ই রয়ে গিয়েছে। এই পুজোকে ঘিরে নানান লোককথা আছে। পুজোর জন্য যে জল মায়ের কাছে নিয়ে আসা হয়। সেই পুকুর আগে ছিল দাঁড়ি (ছোট ডোবা) । এক রাতের মধ্যে তা পুকুর হয়ে যায়। এই পুকুরের পাশেই
মা উমা দর্শন দিয়েছিলেন ওই পরিবারের সদস্যদের। এমনই কথিত রয়েছে। সাড়ে ৩০০ বছরের প্রাচীন এই পুজো। আগে এই পুজো ঘটে হত। সেই সময় মন্দির ছিল না। মাথার ওপরে খড়ের চালায় দেবীর আরাধনা হতো। এখন অবশ্য ঝাঁ চকচকে মন্দির হয়েছে। সেখানে সাড়ম্বরে পূজো হচ্ছে মায়ের।
পরিবারের সদস্য কাজল চক্রবর্তী, শৈবাল চক্রবর্তী বলেন, ” এই পুজোকে ঘিরে নানান লোককথা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো মাতৃপ্রতিমা যে শিল্পী তৈরি করুক না কেন প্রতিমার রূপ হু ব হু এক হয়। মায়ের এমন মাহাত্ম্য। ” এবার প্রতিমা তৈরি করেন শ্যামল দত্ত। তাঁর কথায়, “এই পুজোর প্রতিমা আমরাই করে থাকি। বংশানুক্রমিক ভাবে আমাদের পরিবারেই দায়িত্ব পালন করে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজে শিল্পী বদল হলেও মায়ের চেহারা একইভাবে ফুটে ওঠে। মনে হয় কোথাও যেন দৈবিক শক্তি বিরাজ করছে! “এই পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকলেও পুজোয় এখানে পা রাখেন। খাওয়া-আড্ডায় গমগম করে ওঠে পুজোর দিনগুলো। দুর্গা মন্দিরের পাশেই রয়েছে শিব মন্দির। সুদূর বেনারস থেকে শিব ঠাকুর নিয়ে এসে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়। রয়েছে নাটমন্দিরও। এর থেকেই বোঝা যায় এই পরিবারের নাট্যচর্চাও ছিল।
Post Comment