insta logo
Loading ...
×

ফ্রি ফায়ারের থেকে দুনিয়া থেকে বাইক ছিনতাই, পুরুলিয়া পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর রহস্যর পর্দা ফাঁস

ফ্রি ফায়ারের থেকে দুনিয়া থেকে বাইক ছিনতাই, পুরুলিয়া পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর রহস্যর পর্দা ফাঁস

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

ফ্রি ফায়ারের দুনিয়া থেকে বাস্তবে বাইক ছিনতাই। অনলাইন গেমের ভার্চুয়াল পরিচয় যে বাস্তবে নেমে আসতে পারে রক্তাক্ত অপরাধে, তারই প্রমাণ দিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশের আরেকটি রোমহষর্ক তদন্ত। গেমের স্ক্রিন থেকে শিমুলিয়া–চাকড়া বাইপাসের অন্ধকার আন্ডারপাস, সব সুতো জুড়ে দিয়ে বাইক ছিনতাই ও খুনের চেষ্টার এই জটিল রহস্যের পর্দা ফাঁস করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে ০২ অক্টোবর ২০২৫ , রাত প্রায় ১১টা নাগাদ। শিমুলিয়া–চাকড়া বাইপাস ধরে বেলকুঁড়ির দিকে মোটরবাইকে যাচ্ছিল ২৬ বছরের তোতন ওরফে বাপি সর্দার। তার বাড়ি হুড়া থানার হাতিবাড়ি গ্রামে। চারপাশ নিস্তব্ধ। ঠিক সেই সময় সোনাইজুড়ি আন্ডারপাসের কাছে আচমকাই কয়েকজন দুষ্কৃতী তার পথ রোধ করে। মুহূর্তের মধ্যেই বেরিয়ে আসে ধারালো অস্ত্র। বসায় গলায় কোপ। উদ্দেশ্য একটাই, হত্যা করে বাইক ছিনতাই।

রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হার মানেনি তোতন। প্রবল যন্ত্রণার মধ্যেও অসীম সাহস দেখিয়ে দুষ্কৃতীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে। প্রাণে বাঁচলেও তার মোটরবাইক নিয়ে চম্পট দেয় হামলাকারীরা।

ঘটনার পর টামনা থানায় মামলা রুজু হয়। শুরু হয় তদন্ত। প্রথমদিকে কোনও স্পষ্ট সূত্র না থাকলেও ধীরে ধীরে একের পর এক ক্লু জুড়তে থাকে পুলিশের হাতে। অবশেষে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ঘটনার তিন মাস পর, পুরুলিয়া মফস্বল থানার খোঁজদা গ্রামের বাসিন্দা নির্মল গরাঁইকে গ্রেপ্তার করে টামনা থানার পুলিশ। তার কাছ থেকেই উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া মোটরবাইক।

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। নির্মল দেখিয়ে দেয় লুকিয়ে রাখা নম্বর প্লেট—WB-55D-6695। গাড়ির পরিচয় গোপন করতে ছিনতাইয়ের পরই সেটি খুলে ফেলা হয়েছিল।

কিন্তু তদন্তে সবচেয়ে ভয়ংকর মোড় আসে নির্মলের স্বীকারোক্তিতে। সে জানায়, এই অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে এক অনলাইন সম্পর্ক। ২০২৩ সালে জনপ্রিয় অনলাইন গেম “ফ্রি ফায়ার” খেলতে গিয়ে নির্মলের পরিচয় হয় বছর কুড়ির তরুণী তিথি বিশ্বাস-এর সঙ্গে। গেমের কথাবার্তা ধীরে ধীরে গড়ায় ঘনিষ্ঠতায়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দ্রুত টাকা রোজগার ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখিয়ে তিথিই নির্মলকে অপরাধে জড়াতে প্ররোচিত করেছিল।

আগেই করা ছিল পরিকল্পনা । অপরাধের ঠিক আগের রাতে, ১ অক্টোবর ২০২৫, তিথি নিজেই পুরুলিয়ায় আসে পুরো ঘটনার তদারকির জন্য। কাজ শেষ হতেই দু’জনে ছিনতাই করা মোটরবাইক নিয়ে এলাকা ছাড়ে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জানুয়ারি ২০২৬, নদিয়া জেলার ধনতলা থানার অধীন আরাংঘাটা এলাকা থেকে তিথি বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তোলা হলে চার দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর হয়।

পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ভার্চুয়াল দুনিয়ার একটি গেম কীভাবে বাস্তব জীবনে জন্ম দিতে পারে ভয়ংকর অপরাধ। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কিংবা এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

Post Comment