নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
র্যাগিংয়ের অভিযোগে এফআইআর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাস সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। অভিযুক্তদের আগেই সাসপেন্ড করেছে কলেজ। এবার তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় ঘটনাটি অন্য মাত্রা পেলো। শনিবার কলেজের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী পুরুলিয়া মফস্বল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, র্যাগিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে কোনও রকম আপস করা হবে না। অ্যান্টি র্যাগিং নীতিমালা কঠোরভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, শুধুমাত্র শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়, আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে যে, শিক্ষাঙ্গনে ভয়ভীতি বা হেনস্থার কোনও স্থান নেই।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের ডোমকলের বাসিন্দা প্রথম বর্ষের এমবিবিএস পড়ুয়া মেহবুব ইসলাম বয়েজ হোস্টেলে র্যাগিংয়ের শিকার হয়। গভীর রাতে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এই ঘটনায় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ঋষভ কুমার সিং এবং চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া অয়ন কুমার বাগচীর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের নির্দেশেই ১৪ থেকে ১৫ জন পড়ুয়া ঘটনায় জড়িত ছিল। অভিযোগ সামনে আসতেই কলেজ প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু হয় এবং শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত পড়ুয়া ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ডাকা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই পড়ুয়াকে দুই বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাদের কলেজ হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবারই হোস্টেল ছাড়তে হয় তাদের।
এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী জানান, “র্যাগিংয়ের মতো ঘটনাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ছাত্রদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।”











Post Comment