insta logo
Loading ...
×

এসআইআর আতঙ্কে পাড়ায় আদিবাসী বৃদ্ধের মৃত্যুর জের, নতুন বছরে কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলনে পুরুলিয়া তৃণমূল

এসআইআর আতঙ্কে পাড়ায় আদিবাসী বৃদ্ধের মৃত্যুর জের, নতুন বছরে কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলনে পুরুলিয়া তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাড়া:

এসআইআরে আতঙ্কিত হয়ে
আদিবাসী বৃদ্ধ-র আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন বছরে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে পুরুলিয়ায় বড়সড় আন্দোলনে নামছে তৃণমূল। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক পুরুলিয়ার পাড়ার আনাড়ার
চৌতলা গ্রামে আরও এক আদিবাসীর প্রাণ কেড়ে নেয়। এমনই অভিযোগ শাসক শিবিরের। গত সোমবার
শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগেই আত্মহত্যা করেন ৮২ বছরের আদিবাসী বৃদ্ধ দুর্জন মাঝি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে রাজনৈতিক ঝড় তীব্র হয়েছে।

পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের আনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌতলা গ্রামের বাসিন্দা দুর্জন মাঝির নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে। সেই নিয়েই তাঁকে শুনানিতে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, এই নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই বৃদ্ধ।
সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তিনি পরিবারকে জানান, শুনানিতে যাওয়ার জন্য টোটো রিজার্ভ করতে যাচ্ছেন। কিন্তু ব্লক অফিসে পৌঁছনোর আগেই বাড়ি থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে আনাড়া–রুকনি শাখা রেলপথে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করেন বলে পরিবারের অনুমান। ঘটনাস্থলের রেললাইনটি প্রায় ৫০ ফুট নিচু খাদে থাকায় দূর থেকে কিছু বোঝা যায়নি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই ছিন্নভিন্ন দেহ শনাক্ত করেন।রেল পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহ উদ্ধার করে। তবে রেলের গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোমবারই ময়নাতদন্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল। মঙ্গলবার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ নিয়ে আনাড়া এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করে শাসক দল।
মৃতের একমাত্র ছেলে কানাই মাঝির প্রশ্ন, “বাবা ঠিকমতো এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছিল। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। তবু কেন শুনানিতে ডাকা হলো? নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই বাবা ভয়ে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল।”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি কিরিটি আচার্যের দাবি, “এসআইআর নোটিশই দুর্জন মাঝিকে মানসিকভাবে শেষ করে দিয়েছে। আদিবাসীদের ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।”
এই ঘটনায় পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে। চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ
কুমার ও রাজ্যের চিফ ইলেকশন অফিসার মনোজকুমার আগরওয়ালের
বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়।
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথামতো কাজ করছে, আর তার জেরেই আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে ভয় ছড়ানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার আনাড়া বাজারের কাছে পুরুলিয়া–বরাকর রাজ্য সড়কে কিছু সময় অবরোধ হয়। জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয় বিক্ষোভে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“এসআইআর নিয়ে আমাদের আন্দোলন আগেই চলছিল। এবার পুরুলিয়ায় আন্দোলন আরও তীব্র হবে। আদিবাসীদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা আমরা মেনে নেব না।” পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সরেনের বক্তব্য, “২০০২ ও ২০২৫—দুই তালিকাতেই নাম থাকার পরেও যেভাবে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ।”
এসআইআর প্রক্রিয়া কি শুধুই প্রশাসনিক সংশোধন, নাকি এর আড়ালে রাজনৈতিক নির্দেশে ভোটার তালিকা থেকে আদিবাসীদের ছেঁটে ফেলার চেষ্টা চলছে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে পুরুলিয়ার রাজনীতিতে।

Post Comment