বিশ্বজিৎ সিং সর্দার, পুরুলিয়া:
অভিনব উদ্যোগ। গান একটাই। তাতেই নৃত্য প্রদর্শন করবেন সারা দেশের পাঁচ হাজার শিল্পী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন লোকনৃত্যের জন্য গান কিন্তু একটাই। “জয়তী জয় জয় মম ভারত”। এ যেন আক্ষরিক অর্থেই বিবিধের মাঝে মহা মিলনের অভিনব ভারত। আর অভিনব ভারত ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে, পুরুলিয়ার নাটুয়া নৃত্য। আজ ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে দিল্লির কর্তব্য পথে তার একটি ঝলক দেখা যাবে। আজই যে কর্তব্য পথে প্রজাতন্ত্র দিবসের শাহী প্যারেডের ড্রেস রিহার্সাল।
এ বছর সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রত্যেক রাজ্য থেকে আগত ৩২ ধরনের লোকনৃত্য এবং আদিবাসী নৃত্যের ঝলক দেখা যাবে দিল্লির কর্তব্য পথে। সমস্ত শিল্পী মিলিয়ে দশটি দলের সমন্বয়ে প্রায় ৫০০০ শিল্পী একসাথে দশ মিনিট ধরে মাত্র একটি গানে নৃত্য করবেন। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব হতে চলেছে এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের মহোৎসবে।
ওই একমাত্র গানটি হল “জয়তী জয় জয় মম ভারত” । পাঁচ হাজার শিল্পীদের একটি গানে নৃত্য করার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হবে, ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ভাবনা। এই ভাবনার অন্তর্নিহিত বার্তা হল দেশের যুবক এবং নারী শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ২০৪০ পর্যন্ত ভারতকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বা শেরার শিরোপা প্রদান করানো।
আর কয়েকদিন পরেই ২৬শে জানুয়ারি, সাধারণতন্ত্র দিবস। দিল্লির কর্তব্য পথের রাজকীয় অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় অনেকেই থাকেন। এমন কী অনেকেই ওই অনুষ্ঠানের সাক্ষী হওয়ার জন্য দিল্লির কর্তব্য পথে উপস্থিত হন। এই মহোৎসবের পবিত্র লগ্নে উপস্থিত থাকেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশ থেকে আগত অতিথিবৃন্দ।
হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে এবারেও। ওই অনুষ্ঠান দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পুরুলিয়াবাসীও। কারণ একটাই। এবছর ওই রাজকীয় অনুষ্ঠানে নৃত্য প্রদর্শন করতে চলেছে পুরুলিয়ার বলরামপুরের বীরেন কালিন্দির নাটুয়া নৃত্য দল।
প্রায় একমাস আগে ভারত সরকারের সংগীত নাটক অ্যাকাডেমির তরফ থেকে দিল্লির সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ডাক পায় বীরেন কালিন্দীর নাটুয়া দল। তারপরেই ট্রেনে করে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। দিল্লি পৌঁছাতেই শুরু হয়ে যায় তাদের নৃত্যের প্রস্তুতি।
এ বিষয়ে পুরুলিয়া নাটুয়া দলের ওস্তাদ বীরেন কালিন্দী জানিয়েছেন,”গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে আমাদের সাধারণতন্ত্র দিবসের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রত্যেকদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রস্তুতি চলে। প্রত্যেকদিন দিল্লির কৃষি ভবন ময়দানে আমাদের অনুশীলন চলত। কিন্তু ২৩ জানুয়ারি আমরা কর্তব্য পথে নৃত্য প্রদর্শন করবো।
আজ ২৩ জানুয়ারি মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। সঙ্গে ২৬শে জানুয়ারির জন্য আমাদের পরীক্ষার দিন। আজ বিগত দিনের মতো সাধারণ প্রস্তুতি নয়। ঠিক যেভাবে সাধারণতন্ত্র দিবসে জমজমাটি আসর লক্ষ্য করা যায় কর্তব্য পথে, ঠিক তেমনি আজকেও লক্ষ্য করা যাবে। সংগীত নাটক অ্যাকাডেমির তরফ থেকেও আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আজ সকালেই অনুষ্ঠান। তাই গতকাল মধ্য রাত্রি অর্থাৎ রাত্রি ১ টার সময় নিজেদের হোটেল থেকে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে আগাম রওয়ান দিয়েছিলাম। আজ সকাল থেকে ২৬ জানুয়ারির মতো পূর্ণ মহড়া। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা লোকনৃত্য এবং আদিবাসী নৃত্যের ৫০০০ শিল্পীদের নিয়ে একটি গানে নৃত্য প্রদর্শিত হবে। যার অংশ হিসেবে আমাদের ১০০ জনের দলটিও থাকবে। ৫ হাজার শিল্পীদের সাথে আমরা নাটুয়া দলের ১০০ জন নিজের পুরুলিয়ার ঐতিহ্য তুলে ধরবো, তার জন্য খুশির সাথে গৌরবের অনুভূতিও রয়েছে।”
Post Comment