insta logo
Loading ...
×

৮ বছর পর নাবালিকা গৃহবধূর মৃ*ত্যুর মামলায় শ্বশুরের দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

৮ বছর পর নাবালিকা গৃহবধূর মৃ*ত্যুর মামলায় শ্বশুরের দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর

আট বছর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ন্যায় পেল নাবালিকা গৃহবধূ কবিতা কুমারীর পরিবার। পুরুলিয়া জেলা আদালত পণের দাবিতে নির্যাতন এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় অভিযুক্ত শ্বশুর ধনঞ্জয় কুমারকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল। পাশাপাশি ধনঞ্জয়কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ঘটনার পর থেকে বরের পরিবার যে ধারাবাহিক অত্যাচারের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিল, সেই সব অভিযোগই আদালতে শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়।

ঘটনার সূচনা ২০১৭ সালে। আড়শা থানা এলাকার মেয়ে কবিতা কুমারীর বিয়ে হয় জয়পুর থানার ভূচুংডি গ্রামের বাসিন্দা মালকু কুমারের সঙ্গে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অতিরিক্ত পণের জন্য চাপ সৃষ্টি করত এবং দাবি পূরণ না হওয়ায় নাবালিকা কবিতার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হত।
১৩ নভেম্বর, ২০১৭—কবিতার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে তাকে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনার সময় স্বামী মালকু নাবালক হওয়ায় তাকে জুভেনাইল কোর্টে পাঠানো হয় এবং আদালত শেষে তাকে মুক্তি দেয়। শাশুড়ি জিতনি কুমার বিচারকালেই মারা যান। ফলে বিচার এগোয় একমাত্র শ্বশুর ধনঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত শেষ পর্যন্ত ধনঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করে।
আইনজীবী বিপ্লব সেন বলেন,
“বরপণকে কেন্দ্র করে এখনও বহু প্রত্যন্ত গ্রামে নাবালিকা ও নববধূদের উপর অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়। আদালতের এই রায় সমাজে কঠোর বার্তা দেবে। এ ধরনের অপরাধ আর কোনওভাবেই প্রশ্রয় পাবে না।”
আইনজ্ঞদের মতে, পণের নামে নারীর উপর অত্যাচার ও হত্যার বিরুদ্ধে এই রায় ভবিষ্যতের মামলাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করল।

Post Comment