নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা ও কোটশিলা:
মাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই টেনশন, উদ্বেগ আর সময়ের সঙ্গে লড়াই। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরীক্ষার্থীদের একা ছাড়েনি প্রশাসন। পুরুলিয়া জেলায় একাধিক ঘটনায় মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দ্রুত সিদ্ধান্তের নজির গড়ল পুলিশ প্রশাসন ও জেলা বন দপ্তর। তাদের সক্রিয়তায় বিপদ কাটিয়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় বসতে পারল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা।
কোটশিলা থানার অন্তর্গত চাতমবাড়ি গ্রামের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আশামণি মাহাতো সোমবার পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ে। ভুলবশত অ্যাডমিট কার্ড বাড়িতে রেখে সে পৌঁছে যায় বেগুনকোদর হাই স্কুলে। কেন্দ্রে ঢোকার মুখে বিষয়টি বুঝতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে আশামণি। খবর পৌঁছাতেই এক মুহূর্ত দেরি না করে কোটশিলা থানার মোটরসাইকেল টিম তাকে নিয়ে পরীক্ষার্থীর বাড়িতে ছুটে যায়।সেখান থেকে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।
আশামনি বলে, “মনে হচ্ছিল আর পরীক্ষা দিতে পারব না। কিন্তু পুলিশের এই তৎপরতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরীক্ষায় বসতে পেরেছি।”
অন্যদিকে, হাতি উপদ্রুত ও ঘন বনাঞ্চল ঘেরা এলাকায় পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্ক ছিল। সেই পরিস্থিতি মাথায় রেখে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেয় ঝালদা বন দপ্তর। খামার হাই স্কুল ও রামাশ্রম হাই স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য দুটি বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বাসে করেই প্রতিদিন পরীক্ষার্থীরা নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে এবং পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরছে।
মৌমিতা রায় নামের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বলে, “আগে হাতির ভয় ছিল। এখন বাসে করে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে যেতে পারছি।”
দুর্গাচরণ মাহাতো নামের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন,
“প্রশাসন পাশে না দাঁড়ালে আমরা খুব সমস্যায় পড়তাম। এই উদ্যোগ আমাদের অনেক ভরসা দিয়েছে।”
মাধ্যমিকের মতো জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় প্রশাসনের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা শুধু সমস্যা সমাধানই করেনি, বরং পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে আস্থা ফিরিয়েছে। বই-খাতার বাইরে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পাঠ যে প্রশাসনও দিতে পারে, পুরুলিয়ার এই ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ।










Post Comment