insta logo
Loading ...
×

সিটি স্ক্যান পরিষেবা বন্ধ, বিপাকে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের রোগীরা

সিটি স্ক্যান পরিষেবা বন্ধ, বিপাকে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের রোগীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

জেলার সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান পরিষেবা ঘিরে। পরিষেবা চারদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলার বহু রোগী ও তাদের পরিবার। জরুরি চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বন্ধ থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে শহরের বেসরকারি পরীক্ষাকেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে। এতে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জেলা জুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে একমাত্র সিটি স্ক্যান পরিষেবা রয়েছে একমাত্র পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে। ফলে এই হাসপাতালের উপরই নির্ভরশীল অধিকাংশ রোগী। কিন্তু হঠাৎ করেই মেশিন বিকল হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পরিষেবায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। হাসপাতালের মূল দরজায় ঝুলছে ‘মেশিন খারাপ’ লেখা পোস্টার, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

গোকুল সিং সর্দার নামে হাসপাতালে আসা রোগীর এক আত্মীয়র অভিযোগ, “সরকারি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান হবে ভেবেই রোগী নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু মেশিন খারাপ থাকায় বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।”

সমস্যার কথা স্বীকার করে হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সুকমল বিষয়ী বলেন, “হাসপাতালের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি চারদিন ধরে বিকল রয়েছে। দ্রুত মেরামতির কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্রই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে। চুক্তি অনুযায়ী বেসরকারি মর্ডান প্যাথোলজি মেশিনটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। আপাতত রোগীদের শহরের মর্ডান প্যাথোলজিতে পাঠানো হচ্ছে এবং এর জন্য কোনো অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে না।”

পুরুলিয়া সদর হাসপাতালকে গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার পরেও বিকল্প সিটি স্ক্যান ব্যবস্থা কেন তৈরি করা হয়নি — এই প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসা মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। একটি জেলার জন্য মাত্র একটি সিটি স্ক্যান মেশিনের উপর নির্ভরতা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ‘মর্ডান প্যাথোলজি’র যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল ক্যাম্পাসেই এই পরিষেবা চালু ছিল। কিন্তু যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাওয়ায় পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

Post Comment