শুভদীপ মাহাতো, ঝালদা :
বাংলার বিধানসভা ভোটে আবার সশরীরে ময়দানে ঝাড়খণ্ডের টাইগার! জেএলকেএম দলের সুপ্রিমো তথা ডুমরির জনপ্রিয় বিধায়ক জয়রাম কুমার মাহাত, নিজের দলের দুই প্রার্থীর মনোনয়নে যোগ দিতে সোমবার হাজির হলেন ঝালদায়। এদিন ঝালদা মহকুমা শাসকের দপ্তরে জেএলকেএম-এর হয়ে মনোনয়ন জমা দেন জয়পুর কেন্দ্রের প্রার্থী দিব্যজ্যোতি সিংহ দেও এবং বাঘমুণ্ডি কেন্দ্রের প্রার্থী প্রাক্তন আরএসএস কর্মী মনোজ মাহাত । টাইগারকে একবার চোখের দেখা দেখতে এদিন ঝালদায় মানুষের ভিড় ছিল রীতিমতো উপচে পড়া। এদিকে জেএলকেএম পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তাদের প্রার্থী হিসেবে সজল মাহাত-কে বেছে নেয়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় আত্মবিশ্বাসী জয়পুরের জেএলকেএম প্রার্থী দিব্যজ্যোতি বলেন, “এই ভোটে টাইগার জয়রামের কাঁচি সব ফুলকে কাটবে”। এরপরই জনপ্রিয় পুষ্পা সিনেমার কায়দায় তিনি বলেন, “টাইগার কভি রুকেগা নেহি, আর দিব্যজ্যোতি কভি ঝুকেগা নেহি।”
এই টানটান মনোনয়নের মাঝেই ঝালদায় দেখা গেল এক আজব ঘটনা। বিরোধী শিবির হওয়া সত্ত্বেও, জয়পুর আসনের তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাত প্রকাশ্যেই টাইগার জয়রামের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। রাজনৈতিক বিরোধিতার ঊর্ধ্বে উঠে দুই শিবিরের এই কুশল বিনিময়ে উল্লসিত দুই পক্ষের সমর্থকরা।
জয়পুর ও বাঘমুণ্ডি, এই দুটি আসনই মূলত কুড়মি অধ্যুষিত। এদিকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রধান নেতা অজিত মাহাত-র ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাত বিজেপির প্রার্থী হওয়ায় জয়পুরের কুড়মি সমাজের একাংশ চরম ক্ষুব্ধ। আর সেই ক্ষোভ থেকেই এই দুই আসনে কুড়মি সমাজ সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরাও এদিন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জয়পুরে নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন অনিমেষ মাহাত। তিনি বিজেপির প্রাক্তন নেত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া মাহাতোর স্বামী। জয়পুরে আরেক কুড়মি প্রতিনিধি অশোক মাহাতোও নির্দল হিসেবে মনোনয়ন পেশ করেছেন ।
অনিমেষ মাহাতো বলেন, বিশ্বজিৎ মাহাতোকে যখন বিজেপি প্রার্থী করে তখন বিজেপি সমর্থিত নির্দল লেখা ছিলো। মনোনীত নয়। অজিত বাবু কুড়মি সমাজের নেতা ঠিকই, কিন্তু তিনি অন্য এলাকার বাসিন্দা। আমাদের এলাকার কুড়মি সমাজ আমাকেই সমর্থন করার দিব্যি নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, জঙ্গলমহলের ভোটে টাইগারের পায়ের ছাপ এবং কুড়মি সমর্থিত এই নির্দল প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলবেন, তা নিয়ে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।










Post Comment