নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর:
জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার জয়পুরে সদ্যোজাত শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়লো পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য ভবনে। মঙ্গলবার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাসের হাতে ওই রিপোর্ট জমা পড়ে। তিনি জানান,
রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করা হবে। তবে আইনি কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা এখনও জানা যায়নি।
পুরুলিয়ার জয়পুর গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু শুধু একটি ঘটনা নয়। বরং গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পরিষেবার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, জরুরি পরিষেবার উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিষেবা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর রিপোর্ট তলব করে। সেই মোতাবেক তদন্ত করেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস জানান, “ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে অফিসারদের পাঠানো হয়েছিলো। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট মিলেছে। ওই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিধি মেনে পদক্ষেপ করা হবে।”
গত সোমবার জেলা স্বাস্থ্য ভবনের একটি প্রতিনিধি দল জয়পুর গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করে। তারা চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার ক্রমপর্যায় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দ্বীপতেন্দু মাহাত বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রশাসনকে সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঝাড়খন্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চা বা জেএলকেএম হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে ৪ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অশ্বিনী মাহাতো বলেন, “সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি”।
প্রসঙ্গত, রবিবার জয়পুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এক প্রসূতি সন্তানের জন্ম দেন। পরে চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, প্রসূতি শনিবার রাত থেকে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকলেও সময় মতো স্বাস্থ্য কর্মীদের সহযোগিতা পাননি এবং বিনা চিকিৎসায় সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য হন। এরপর নবজাতকের মৃত্যু হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা এবং হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান। পরবর্তীতে তারা স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার ভিত্তিতেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে এই ঘটনা ঘিরে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ঘাটতি, পর্যাপ্ত কর্মী সংখ্যা এবং জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ওই তদন্তের রিপোর্ট-এ কি রয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি।










Post Comment