নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা :
দেড় মাসের শিশুর মৃত্যু ঘিরে সরগরম ঝালদা। বুধবার ঘটনাটি ঘটে ঝালদার ইচাগ গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা রামেশ্বর লায়ার দাবি, দেড় মাসের শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী পিলাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেওয়ানো হয়েছিল। রাতে মায়ের দুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। বৃহস্পতিবার ভোরে দেখা যায়, ওই শিশুটির কোন সাড়াশব্দ নেই। পরিবারের সদস্যরা সকালে দেখতে পান ঘুমের মধ্যে ওই শিশুর নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়েছিল। এরপর পরিবারের সম্মতিতেই ওই শিশুটিকে মাটি দেওয়া হয়। এই খবর সিপিএম নেতা উজ্জ্বল চট্টরাজের মাধ্যমে পৌঁছায় ঝালদার বিএমওএইচ দেবাশিস মন্ডলের কাছে। এরপর একদল স্বাস্থ্যকর্মী ওই শিশুটির বাড়িতে গিয়ে বাড়ির লোকজনের সাথে কথাবার্তা বলেন।
মৃতের বাবা রামেশ্বর লায়া বলেন, শিশুর ৪৫ দিন পূরণ হওয়ার পর তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। তারপরেই তার জ্বর হয়। সেই দিন রাতেই এই ঘটনা ঘটে। ভ্যাকসিন থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ।
যদিও অভিযোগ মেনে নিচ্ছেন না ঝালদা ১ নং ব্লকের বিএমওএইচ দেবাশীষ মন্ডল। তিনি বলেন, কী কারণে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলা মুশকিল। পুরো বিষয়টা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সিপিআইএম নেতা উজ্জ্বল চট্টরাজ বলেন, এই ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবী জানিয়েছেন তিনি। তিনি চান যেন এই ঘটনার সঠিক বিচার হয়।
শুক্রবার ঐ শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ইচাগ গ্রামে পৌঁছান সিপিআইএম নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে রাজ্যে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। সুস্থ স্বাভাবিক একটা ৪৫ দিনের বাচ্চা এভাবে মারা গেল তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে ভ্যাকসিন কান্ডের ঘটনা ইতিপূর্বেও প্রকাশ্যে এসেছে, এবার জঙ্গলমহল পুরুলিয়াও বাদ গেল না। প্রাণ গেল একরক্তির ছোট্ট শিশুর। পৃথিবী দেখার আগেই অন্ধকারে তলিয়ে গেল ৪৫ দিনের শিশুটির জীবন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করছে সকলে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
Post Comment