insta logo
Loading ...
×

ডিজিটাল গ্রেফতারের ভয়ে প্রতারণার শিকার এক ব্যবসায়ী, খোয়ালেন ১৮ লক্ষ টাকা

ডিজিটাল গ্রেফতারের ভয়ে প্রতারণার শিকার এক ব্যবসায়ী, খোয়ালেন ১৮ লক্ষ টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

কিছুদিন আগেই ডিজিটাল অ্যারেস্ট বিষয়ে বিশদে জানিয়েছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি। বিষয়টি জানা যে কতটা জরুরি তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল, বলরামপুরের একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসায়।

নিজেকে মুম্বাই ক্রাইম বেঞ্চের পুলিশ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-করার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বলরামপুরে। ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

বলরামপুরের কালীতলা এলাকার বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী বছর সাতচল্লিশের অমল কুমার পালের অভিযোগ, ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে তাঁর মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ কর্মী পরিচয় দিয়ে জানান, অভিযোগকারীর আধার কার্ড ব্যবহার করে বেআইনি লেনদেন চলছে এবং তাঁর নামে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আরও একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক বলে পরিচয় দেন আরেক ব্যক্তি।

অভিযোগ, প্রতারকেরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো নথি পাঠিয়ে এবং ভিডিও কলে পুলিশ আধিকারিক সেজে অভিযোগকারীকে ভয় দেখায়। তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে বলে দাবি করে ঘর থেকে বেরোতে ও কাউকে বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়। মামলা মিটিয়ে দেওয়ার নাম করে আদালতের জরিমানা ও জামিনের অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়।
ভীত হয়ে অভিযোগকারী গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার ২০০ টাকা একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠান । পরে নিরাপত্তা জামিনের কথা বলে আরও ৫ লক্ষ টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলা হলে ব্যবসায়ী সেটিও পাঠান । সব মিলিয়ে প্রায় ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরে সন্দেহ হওয়ায় পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই ব্যবসায়ী। এরপর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রতারকদের মোবাইল নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তল্লাশি শুরু করেছে বলে পুলিশ ।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠান থেকে পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি উপস্থিত জনগণের কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন, ডিজিটাল অ্যারেস্ট-এর বিষয়ে কার কী জানা আছে? জনগণ যে বিষয়টি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না, তা বুঝতে পারেন পুলিশ সুপার। তখন বিশদে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বিষয়টি বুঝিয়ে দেন তিনি। বুঝিয়ে দেন, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কোন কিছু হয় না। এগুলি সমস্ত প্রতারণা। কাউকে অ্যারেস্ট করতে গেলে সরাসরি পুলিশ যাবে। সাইবার প্রতারকদের টাকা হাতানোর নয়া ফন্দি হলো এই ডিজিটাল অ্যারেস্ট।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য :

https://www.facebook.com/share/v/1BufT9jYTT

Post Comment