insta logo
Loading ...
×

ঋষি নিবারণচন্দ্রের জন্ম সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে নামাঙ্কিত ভবন, বই

ঋষি নিবারণচন্দ্রের জন্ম সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে নামাঙ্কিত ভবন, বই

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

শিক্ষাপরিসরে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল । জেলার প্রশাসনিক কাঠামোর এক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্যও উন্মুক্ত করে শিক্ষা ও সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার বার্তা দিয়েই নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করল একটি নবসংস্কারিত সভাগৃহ।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠক, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসংক্রান্ত কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ-এর ভবনের তৃতীয় তলার সভাগৃহটি। সম্প্রতি সংস্কার ও আধুনিকীকরণের পর শুধু পরিকাঠামোগত উন্নয়নেই থেমে থাকেনি উদ্যোগটি—সভাগৃহটি ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ ফি-এর বিনিময়ে জেলার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্যও খুলে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সুলভ, সুশৃঙ্খল ও পরিকাঠামোগতভাবে উন্নত স্থান দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করবে এই নবসংস্কারিত পরিসর।

সংস্কার-পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর সভাগৃহটির নামকরণ করা হয়েছে “ঋষি নিবারণ সভাগৃহ”। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদস্বাধীনতা সংগ্রামী ঋষি নিবারণ চন্দ্র দাশগুপ্ত-এর স্মৃতির উদ্দেশেই এই নামাঙ্কন। জন্ম সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর শিক্ষা-ভাবনা ও সমাজমনস্ক আদর্শকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
নামকরণ ও দ্বারোদ্ঘাটন করেন সংসদের সভাপতি রাজীব লোচন সরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋষি নিবারণের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির অন্যতম পুরোধা ও তাঁর নাতি প্রসাদ দাশগুপ্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজয় বসু।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রাক্তন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক পঙ্কজ পাল ঋষি নিবারণের শিক্ষা-দর্শন ও সমাজে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সভাগৃহের ইন-চার্জ পতিত পাবন রক্ষিত স্বরচিত কবিতা পাঠ করে পরিবেশকে আবেগঘন করে তোলেন।

সভাপতি রাজীব লোচন সরেন তাঁর বক্তব্যে জানান, “জেলার শিক্ষার সার্বিক অগ্রগতির জন্য উন্নত অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি । এই সভাগৃহ শুধু প্রশাসনিক কাজের জন্য নয়, বরং শিক্ষাবিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে”।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিকভাবে অনুষ্ঠানটি ছিল মর্যাদাপূর্ণ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ। উপস্থিত অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষাপ্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে শিক্ষা ও সমাজ—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পরিকাঠামো উন্নয়ন, ঐতিহ্যের স্মরণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ততার বার্তা—এই তিনকে একসূত্রে গেঁথে “ঋষি নিবারণ সভাগৃহ”-এর আত্মপ্রকাশ পুরুলিয়ার শিক্ষাক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকল।

এদিনই শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী স্বরূপ দত্তর লেখা ‘নিবারণ চিত্র’ বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

Post Comment