শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
ভোটের ময়দানে নামার আগেই জঙ্গলমহলে চরম রাজনৈতিক ডামাডোল! প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার ঠিক পরেই এবার খাস পুরুলিয়ায় ‘বিনা যুদ্ধে রণে ভঙ্গ’ দিলেন ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (জেএলকেএম)-র খোদ জেলা সভাপতি সজল কুমার। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতা ও গাফিলতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি শুধু নির্বাচন থেকেই সরে দাঁড়ালেন না, রীতিমতো অভিমানে দলের সমস্ত দায়িত্ব থেকে ইস্তফাও দিলেন। ভোটের ঠিক মুখে দলের জেলা সভাপতির এমন অভাবনীয় পদক্ষেপে পুরুলিয়ার রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
দীর্ঘ এক আবেগঘন বিবৃতিতে সজলবাবু তাঁর চরম হতাশার কথা তুলে ধরে জঙ্গলমহলবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর আক্ষেপ, একেবারে শেষ মুহূর্তে, গত ২রা এপ্রিল তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। ৩রা এপ্রিল গুড ফ্রাইডে এবং পরের দিন শনিবারের ছুটির মধ্যেও দৌড়াদৌড়ি করে তিনি ১৪ পাতার হলফনামা ও ব্যাঙ্কের কাজ মেটান। কিন্তু তাঁর নামে চলা পুরনো একটি রেল-টেকা মামলার কারণে মনোনয়নে প্রয়োজনীয় সি-সেভেন ফর্ম ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তাঁর ক্ষোভ, “দলের যাঁদের সাহায্য করার কথা ছিল, তাঁদের থেকে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা পাইনি। মনোনয়নের শেষ দিন কড়া নাড়লেও এখনও আমি টিকিট হাতে পাইনি। দলের চরম অসহযোগিতা ও নিজের অনভিজ্ঞতার কারণে আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি”।
দলের সুপ্রিমো টাইগার জয়রাম কুমার মাহাত-র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সজলবাবু তাঁকে সতর্ক করে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের জন্য আপনি যাঁদের দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁরা আপনার আবেগকে নিয়ে খেলছেন। এই দলের সঙ্গে আর থাকা সম্ভব নয়, তবে জঙ্গলমহলের অধিকার আদায়ের লড়াই আমি চালিয়ে যাব”।
অন্যদিকে, সজল বাবুর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর নিজেদের অস্বস্তি ঢাকতে আসরে নেমেছে জেএলকেএম নেতৃত্ব। দলের পশ্চিমবঙ্গ ইন-চার্জ রাজু মাহাত দাবি করেছেন, তাঁরা সজলবাবুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সদুত্তর পাননি। একই সুর শোনা গিয়েছে দলের আরেক নেতা বিজয় কুমার সিংয়ের গলায়। তিনি জানান, “আমরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ওঁর মোবাইল ক্রমাগত সুইচড অফ পাওয়া গিয়েছে”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খোদ জেলা সভাপতি স্তরের একজন নেতার এভাবে চরম ক্ষোভে মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়া জেএলকেএম-এর সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাবকেই প্রকট করে তুলল।










Post Comment