নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা:
দক্ষিণ ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরু থেকে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে পরিযায়ী শ্রমিকের কফিনবন্দি দেহ ফিরতেই শোকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের চেক্যা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা প্রসন্ন কুমারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে যেমন ধোঁয়াশা রয়েছে, তেমনই বেঙ্গালুরুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে অভিযোগ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরুর সাম্পিগেহাল্লি থানা এলাকায় এক ঠিকাদারের অধীনে কাজ করার সময় প্রসন্ন কুমারের দেহ উদ্ধার হয়। কীভাবে মৃত্যু হল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি পরিবারের। ময়নাতদন্তের পর দেহ হস্তান্তর করা হলেও প্রথমদিকে সেটিকে ‘বেওয়ারিশ’ বলে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দেহ আনতে গিয়ে মৃতের আত্মীয় সুরেশ কুমারকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহেও জেরা করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনা রাজনৈতিক স্তরে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে দ্রুত দেহ রাজ্যে আনার ব্যবস্থা হয় বলে দলীয় সূত্রের দাবি। রবিবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের বিমানে বেঙ্গালুরু থেকে রওনা দিয়ে সকাল ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে পৌঁছায় কফিনবন্দি দেহ। সেখান থেকে সড়কপথে দুপুরের মধ্যেই গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী কুন্তি কুমার ও পরিবারের সদস্যরা। মৃতের শ্যালক গুরুবন্থ কুমারের অভিযোগ, “এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। খুনের অভিযোগ নিয়েই আমরা বেঙ্গালুরু গিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
পরিবার জানিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে বেশি আয়ের আশায় দক্ষিণ ভারতে কাজে গিয়েছিলেন প্রসন্ন। মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা বেতন ধার্য থাকলেও নিয়মিত টাকা মিলত না বলে অভিযোগ। সংসারে অভাব লেগেই ছিল। মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। বাড়ি ফেরার আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রসন্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরলেন কফিন বন্দী হয়ে।
প্রসন্ন কুমারের দুই ছেলে। একজন এ বছর মাধ্যমিক দিয়েছে, অন্যজন নবম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার এখন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছে। রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে পুরুলিয়া জুড়ে বাড়ছে প্রশ্ন।










Post Comment