insta logo
Loading ...
×

জেলে বসেই ডাকাতি! ধরল সুপার কপ পুরুলিয়া জেলা পুলিশ

জেলে বসেই ডাকাতি! ধরল সুপার কপ পুরুলিয়া জেলা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া :

সে বন্দি পুরুলিয়ার কারাগারে। আর জেলে বসেই সুদূর বিহারে স্বর্ন বিপণীতে ডাকাতিতে মদত !
এ কী বাস্তব! না টানটান উত্তেজনা পূর্ণ কোন ওয়েব সিরিজ? এমন ঘটনা কিন্তু এর আগেও ঘটেছে। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট পুরুলিয়া শহরের একটি স্বর্ণ বিপণীতে ডাকাতির ঘটনায় মিলেছিল বিহার জেলে থাকা বন্দিদের যোগ । এবার ঘটল ঠিক তার উল্টো। তবে দুই ক্ষেত্রেই সুপার কপ পুরুলিয়া জেলা পুলিশ ধরে ফেলল অপরাধীদের।

গত সোমবার সকালে বিহারের আরাতে নামী স্বর্ন বিপণী কেন্দ্রে ২৫ কোটি টাকার গহনা লুঠ হয়। ঢুকে পড়েছিল সশস্ত্র ৬ জনের একটি ডাকাত দল। চালিয়েছিল লুঠ। তবে পালাতে পারেনি তারা। পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। দুপক্ষের গুলিযুদ্ধে জখম হয় ২ ডাকাত। উদ্ধার হয় লুঠের অলংকারগুলি।

এবার আসে কাহানিমে ট্যুইস্ট। ধৃতদের জেরা করে বিহার পুলিশ পায় একটি মোবাইল নম্বরের হদিশ। টাওয়ার লোকেশন? পুরুলিয়া জেলা সংশোধনাগার। তৎক্ষনাৎ বিহার পুলিশ যোগাযোগ করে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সঙ্গে। জেলা পুলিশ বিষয়টি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে জানায়।পুরুলিয়া জেলা সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে ২ নম্বর ওয়ার্ডে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ব্লুটুথ ইয়ার ফোন। ঘটনায় বিহারের বাসিন্দা তথা পুরুলিয়া জেলা সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দি চন্দন কুমার ওরফে প্রিন্সের বিরুদ্ধে পুরুলিয়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন পুরুলিয়া সংশোধনাগারের সুপারিন্টেনডেন্ট স্বপনকুমার দাস। তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশোধনাগার সুপার বলেন, “তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাগ থেকে মোবাইল এবং ইয়ার ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।”

কিন্তু জেলের ভিতরে বিচারাধীন বন্দির কাছে কীভাবে এলো অ্যান্ড্রয়েড ফোন আর ব্লুটুথ স্পিকার? সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারাধীন বন্দিদের পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় শুকনো খাবার, ফল পৌঁছে দেয়। সেগুলি ভালো করে যাচাই করে তবেই বন্দিদের দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে কি কোন ভাবে সেই জিনিসপত্রের সঙ্গে এসেছিল মোবাইল ফোন? তদন্ত করছে পুলিশ। খোঁজ শুরু করেছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষও। উদ্ধার হওয়া মোবাইলের
আইএমইআই ও সিম কার্ডের নথি যাচাই করা কোথা থেকে ওই মোবাইল ফোনটি কেনা হয়েছে, কার নামে কেনা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সিম কার্ডের বিষয়েও বিশদ খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। আরার স্বর্ণ বিপণীতে ডাকাতির ঘটনার ষড়যন্ত্রে ওই মোবাইল ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে।

কিন্তু কে এই প্রিন্স? জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ২০২২ সালে হুড়ার কেশরগড় গ্রামে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা হয়। ওই ঘটনায় বিহারের চন্দনকুমার ওরফে প্রিন্স সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে হুড়া থানার পুলিশ। বাঁকুড়ার একটি মামলায় সেখানকার সংশোধনাগারে ছিল প্রিন্স। মাস চারেক আগে তাকে পুরুলিয়া জেলা সংশোধনাগারে নিয়ে আসা হয়। সেই মামলায় চার্জশিটও দাখিল করেছেন তদন্তকারী আধিকারিক।

Post Comment