insta logo
Loading ...
×

কোটশিলায় হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরে ধৃত বিজেপি ঘনিষ্ঠ? এ কী দাবি তৃণমূলের

কোটশিলায় হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরে ধৃত বিজেপি ঘনিষ্ঠ? এ কী দাবি তৃণমূলের

নিজস্ব প্রতিনিধি , কোটশিলা:

বাসন্তী দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে মূর্তি ভাঙচুরকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জয়পুর বিধানসভার কোটশিলা এলাকা। রবিবার গভীর রাতে একাধিক গ্রামে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় কোটশলা থানার মুরগুমা, বেগুনকোদর ও মুটুকুড়া গ্রামে। ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কোটশিলা থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বছর বিয়াল্লিশের গদ্দু মাহাতো মুরগুমা গ্রামের বাসিন্দা। ধৃত ব্যক্তিকে বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যেতো বলে তৃণমূলের দাবি। অভিযোগ, সোমবার রাতেই সে মুরগুমা ও বেগুনকোদরে বজরংবলির দুটি মূর্তি ভাঙচুর করে। পাশাপাশি মুটুকুড়া গ্রামে বাসন্তী পুজোর দুর্গা প্রতিমাও মোবিল মাখিয়ে নষ্ট করা হয়। নষ্ট করা হয়েছে বেগুনকোদর কালী মন্দিরের একটি সেলফি পয়েন্ট।

মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে কোটশিলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মূর্তি নষ্ট করার পাশাপাশি লাইট ও বোর্ডও ভেঙে দিয়েছে সে বলে জানা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ দেখতে পেয়েছে ওই ব্যক্তি যে স্কুটিতে ছিলো, তাতে ছিলো আরও দুই আরোহী। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বেগুনকোদরের রাসমন্দির চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন হিন্দু সেবা দলের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সংগঠনের তরফে বেগুনকোদর পুলিশ ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছান জয়পুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতো। তিনি পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানান। বলেন, “রাম শ্যাম যদু মধু — যেই দোষী, তাকেই গ্রেফতার করতে হবে।” পরে তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাতোও সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন। বুধবারই নতুন বজরংবলী মূর্তি এনে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “এলাকায় রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পালটা কিছু বলতে না পেরে, ধর্মীয় অশান্তি পাকাতে চাইছে বিজেপি।”

পুলিশের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বাসন্তী পুজো ও আসন্ন রামনবমীকে সামনে রেখে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে এখনও ক্ষোভ থাকলেও, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।

Post Comment