নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দোয়ান :
পা ছুঁয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করেন হেমন্ত সরেন। সম্বোধন করেন দিদি বলে। এবার সেই দিদি ভাইয়ের সম্পর্কে নুন মিশিয়ে দিল আলু। পরিস্থিতি সঙ্গীন। বাংলা-ঝাড়খণ্ড লড়াইয়ের পরিস্থিতি পুরুলিয়ার বান্দোয়ান সীমান্তে। উভয় প্রান্তের আম জনতার পেটে পড়ছে টান।
আলুর মূল্য বৃদ্ধিতে রাশ টানতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশে ভিন রাজ্যে আলু রপ্তানি বন্ধ হয়েছে। এবার তারই প্রভাব পড়লো পুরুলিয়া ঝাড়খন্ড সীমান্ত এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গের কোন সবজি ঝাড়খণ্ডের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমন কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দারা। শুক্রবার এমন ফতোয়া নিয়ে বান্দোয়ানের দুয়ারসিনি-আসনপানি ঝাড়খন্ড সীমান্ত এলাকায় ঝাড়খণ্ডবাসীরা চাকা জ্যাম করে বিক্ষোভ দেখান। এদিন ভোররাত থেকেই বাংলার বিভিন্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে ঠিকা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ আটকে পড়েন এই বিক্ষোভে।
জামশেদপুরে রোজ বান্দোয়ানের গ্রাম থেকে কাজ করতে যান স্থানীয় বাসিন্দা বিক্রম টুডু। তিনি বলেন, তাঁর মতো বহু ঠিকা শ্রমিক, সবজি ব্যবসায়ী বাংলা থেকে ঝাড়খণ্ডে প্রতিদিন কাজ করতে যান। এই বিক্ষোভের ফলে তারাও ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। পেটের টানে ভিন রাজ্যে যান তারা। দুই রাজ্যের টানাপোড়েনে তাদের রুটি রুজিতে টান পড়তে চলেছে।

ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারী বীরেন সিং, সুভাষ মুখার্জি প্রমুখ বলেন, কোনরকম আগাম তথ্য না দিয়ে হঠাৎ করে বাংলা থেকে ঝাড়খণ্ডে আলু রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাতে ঝাড়খণ্ডের মানুষেরা অনেকটাই সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। তাই এবার তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কোন সবজি গাড়ি বা কোন শ্রমিকদের তারা ঝাড়খণ্ডে প্রবেশ করতে দেবেন না। শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য যদি কেউ বাংলা থেকে ঝাড়খণ্ডে যেতে চায়, তাদের সহযোগিতা করবেন। বাংলা সরকার যদি তাদের সহযোগিতা না করেন তবে এইভাবেই তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চালিয়ে যাবেন।
আলু আর সবজি একে অন্যের পরিপুরক। কিন্তু বাংলা – ঝাড়খণ্ড বিরোধ এই আলু আর সবজিকে কেন্দ্র করে। আলু রপ্তানি না হলে বাংলার সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে ঠিকা শ্রমিক ও অন্যান্য সাধারণ মানুষদেরও ঝাড়খন্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিবাদে বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্ত এলাকার দুয়ারসিনিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বাংলার মানুষজন। দুই রাজ্যের টানাপোড়েনে সমস্যার মধ্যে পড়ছে দিন আনা দিন খাওয়া সাধারণ মানুষ।











Post Comment