নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:
বাংলার গৃহহীনদের মাথার ওপর পাকা ছাদ দিতে ৬৫৬৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রথম দফায় বরাদ্দ করল সরকার। রাজ্যের শাসকদল দাবি করছে এটাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড়দিনের উপহার! তাদের আরও দাবি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পরেও এই বিপুল পরিমাণ টাকা রাজ্য সরকার শনিবারের সন্ধ্যায় জেলায়- জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছে। সেদিন রাতেই জেলা প্রশাসন ব্লকগুলিতে বরাদ্দ পাঠায়। আজ থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে বরাদ্দের টাকা। প্রথম ধাপে রাজ্য জুড়ে প্রায় ১১ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে।
আবাস ঘিরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ মিটিয়ে
প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তি যাতে এই আবাসের সুবিধা পান তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
জেলাশাসকদের।
পুরুলিয়ার জেলাশাসক রজত নন্দা বলেন, ” মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনার পর পুরুলিয়ার উপভোক্তাদের একাউন্টে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। ” রাজ্যের নির্দেশ মোতাবেক আবাস প্লাস অপেক্ষমান তালিকা থেকে আবাস পাওয়ার জন্য
যোগ্য ব্যক্তি যাচাই করা হয়। অ্যাপের মাধ্যমে সমীক্ষা শেষে প্রাথমিক তালিকা করা হয়।” ওই তালিকায় থাকা যে সকল উপভোক্তার আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্কের লিঙ্ক হয়নি। সেই কাজ করে দিচ্ছে ব্লক প্রশাসন। ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে এই কাজ চলছে। আধার ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রেও রাজ্য জুড়ে ব্লকগুলি সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের কাছে লিঙ্ক পাঠিয়ে দিয়েছে। এই লিঙ্কে ক্লিক করে উপভোক্তারা নিজেরাই ভেরিফিকেশনের কাজ করছেন।
প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা ট্রেজারির মাধ্যমে পাওয়ার পর উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করবেন। তারপর মিলবে শেষ কিস্তির টাকা । রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের পক্ষে প্রচার করা হচ্ছে, কেন্দ্রের বঞ্চনায় এই মেগা প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতে সেপ্টেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হয়ে গত চার মাসের মধ্যে উপভোক্তার একাউন্টে টাকা ঢুকে যাচ্ছে। ফলে ভীষণ খুশি উপভোক্তারা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে পাবেন।
পুরুলিয়ায় প্রথম ধাপে বাংলার বাড়ি পাচ্ছেন ৩৬ হাজার উপভোক্তা। ধাপে ধাপে এই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৫ হাজার ৫৫২ জন।
প্রকল্পের সূচনায় প্রতীকী রূপে আজ মঙ্গলবার রাজ্যের ২১ টি জেলা থেকে মোট ২ জন করে উপভোক্তা মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে নবান্নের সভাঘর থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা নেন। পুরুলিয়া থেকে পুরুলিয়া ১ নং ব্লকের লালমোহন মাহাতো, মানবাজার ২ নং ব্লকের বাবুলাল সরেন এই প্রকল্পের সুবিধা পান।











Post Comment