insta logo
Loading ...
×

ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় বাসন্তী দুর্গাপুজো, ভক্তদের ঢল

ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় বাসন্তী দুর্গাপুজো, ভক্তদের ঢল

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

বাসন্তী দুর্গাপূজায় পুরুলিয়ার নদীয়াড়া গ্ৰাম যেন এক অন্য জগৎ । ধর্মীয় আচার, লোকসংস্কৃতি এবং গ্রামীণ সংহতির অনন্য মেলবন্ধন ঘটেছে এই বাসন্তী পুজোকে ঘিরে। সপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী—এই চারদিনে নদীয়াড়া গ্রাম যেন এক বিশাল সাংস্কৃতিক মঞ্চে পরিণত হয়। যাত্রাপালা, ভক্তিমূলক সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা—সব মিলিয়ে উৎসবের রূপ পায় এক সর্বজনীন মিলনমেলা। ভিন জেলা তো বটেই, ভিন রাজ্য থেকেও ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামছে এই গ্রামে। গ্রামবাসীদের কঠোর নিয়ম—এই চারদিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার, শুদ্ধাচারে পালন করা হয় প্রতিটি আচার।

পুজো কমিটির সদস্য নরেশ মিশ্র বলেন,
“আমাদের এই পুজো শুধু ধর্মীয় নয়, এটা আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতীক। বহু দূর থেকে মানুষ আসেন, আমরা চেষ্টা করি সবাইকে নিয়ে এই উৎসবকে সফল করতে।”
অন্যদিকে, পুজো কমিটির আর এক সদস্য দিলীপ গোপ জানান,
“পুরোনো নিয়ম আজও অক্ষরে অক্ষরে মানা হয়। মায়ের প্রতি ভক্তি আর গ্রামের মানুষের ঐক্য এই দুইয়ের জোরেই এত বছর ধরে পুজো চলছে।”

এই উৎসবের পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক বিশ্বাসের গল্প, যা আজও গ্রামবাসীদের মনে গভীরভাবে প্রোথিত। কথিত আছে, দেড় শতাধিক বছর আগে বসন্ত মহামারীর প্রকোপে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল নদীয়াড়া ও আশপাশের গ্রামগুলোতে। আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালাতে শুরু করেন মানুষ। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে অজানা ভয় ও অঘটনের ছায়া। সেই সময় এক সন্ন্যাসীর পরামর্শ ও বাসন্তী মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে গ্রামের কেন্দ্রস্থলে মায়ের পুজো শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বিশ্বাস করা হয়, এরপরই ধীরে ধীরে রোগের প্রকোপ কমতে শুরু করে এবং মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠেন। যারা গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তারাও ফিরে আসেন। আনন্দে ভরে ওঠে গোটা গ্রাম।

সেই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় এই বাসন্তী পুজোর প্রচলন, যা আজও পুরনো আচার-অনুষ্ঠান মেনেই অনুষ্ঠিত হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন নদীয়াড়ার মানুষ। আজও সেই বিশ্বাস অটুট। মায়ের আরাধনায় মেলে মুক্তি, হয় মনোবাসনার পূরণ।

Post Comment