
দেবীলাল মাহাত, আড়শা :
‘বেলুন নিবে গো,বেলুন’। দুর্গাপুজা এলেই গ্রামে গ্রামে শোনা যায় বেলুন বিক্রেতার হাঁক। লাল , হলুদ, সবুজ নানান রংয়ের বেলুন নিয়ে হাজির হয় গ্রামে গ্রামে। মা উমার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চির পরিচিত কন্ঠস্বর শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে কচিকাঁচারা। বেলুন কিনে খুশিতে তাদের চোখ ঝলমল করে ওঠে । হাসি ফোটে মুখে। যাকে সবাই চেনে ‘বেলুন কাকু’ নামে।
আড়শা ব্লকের বামুনডিহা গ্রামের তনুজ যোগী। বৌ , চার মেয়ে নিয়ে তার সংসার।অভাবের সংসারে লেখাপড়া বেশি হয়ে ওঠেনি। অভাব, অনটন নিত্য সঙ্গী। সংসার চালাতে ২৫ বছর আগে শুরু করেন বেলুন বিক্রি। যা আজও ছেদ পড়েনি। পুরুলিয়া থেকে কিনে নিয়ে আসেন বেলুন। তারপর মেলা থেকে আর এক মেলা, গ্রাম থেকে গ্রাম পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন বেলুন। ঠিক কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই রানারের মতো । বেলুন বিক্রি করে যা আয় হয়,তাই দিয়েই চলে সংসার।
পুরুলিয়ায় দুর্গাপুজা মানেই মেলা, আর রাতে ছৌ-ঝুমুরের আসর। দুর্গাপুজা থেকেই শুরু হয় মেলা। যা চলে টানা নতুন বাংলা বছরের জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত। এই মেলা সহ গ্রামে গ্রামে বেলুন বিক্রি করে থাকেন তনুজ যোগী। আসলে পুজা এলেই এলাকার ছেলে- মেয়েরা বেলুন কেনার জন্য তার দিকে তাকিয়ে থাকে।তনুজ যোগী বলেন, “সাইকেল চালাতে পারি না।তাই পায়ে হেঁটে মেলা সহ গ্রামে গ্রামে বেলুন বিক্রি করে থাকি। পুজো এলেই বেলুন বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়।সেই টাকাতেই পরিবারের সকলের নতুন জামাকাপড় হয়। আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, এখন বাজারে বিভিন্ন ধরনের চাইনিজ খেলনা এসে গিয়েছে। তাই আগের থেকে ভাটা পড়েছে বেলুন বিক্রিতে।আর কতদিন এভাবে বেলুন বিক্রি করবেন? প্রশ্ন শুনে “বেলুন কাকুর” চোখ ছলছল করে ওঠে। “যতদিন বাঁচবো,ততদিন ” দুর থেকে কচিকাঁচা ছেলেমেয়েদের ডাক আসে, “ও বেলুন কাকু, “ও বেলুন কাকু “। মেলার ভিড়ে হারিয়ে যান, ‘বেলুন কাকু’।
Post Comment