নিজস্ব প্রতিনিধি , বান্দোয়ান:
বোরোর আঁকরোর পর ফের জঙ্গলমহলে মাওবাদী নামাঙ্কিত ‘ভুয়ো’ পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বান্দোয়ানে। কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার যশপুর অঞ্চলে তৃণমূল কার্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা একাধিক পোস্টার উদ্ধার হয়েছে। তাতে শাসক ও বিরোধী মিলিয়ে আট জন স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ‘গণ আদালতে’ বিচারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে বান্দোয়ান থানার পুলিশ পোস্টারগুলি খুলে তদন্ত শুরু করেছে। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভিযান) রসপ্রীত সিং জানান, কারা এর পিছনে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আতঙ্ক ছড়াতেই কেউ এই পোস্টার দিয়েছে।
পোস্টারে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও ঝাড়খণ্ড পার্টি (আদিত্য)-র কয়েক জন নেতার নাম উল্লেখ করে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে পুলিশ কর্তাদের দাবি, মাওবাদীদের প্রচলিত পোস্টারের মতো সংগঠনের নাম, নীতি বা সুসংহত ভাষা এখানে নেই, বানান ভুলও রয়েছে—যা সন্দেহ বাড়াচ্ছে।
বান্দোয়ান ব্লক তৃণমূল সভাপতি জগদীশ মাহাতো বলেন, “এই পোস্টার মাওবাদীদের নয়। এলাকায় অশান্তির পরিবেশ নেই। যারা আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।”
অন্যদিকে পোস্টারে নাম থাকা কংগ্রেস নেতা জগবন্ধু সিং মানকি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রমাণ হলে তিনি স্বেচ্ছায় বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ভোটের আগে জঙ্গলমহলে এ ধরনের পোস্টার উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের পোস্টার কেন দেওয়া হচ্ছে?
ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত শত্রুতায়
কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ না তুলে ‘মাওবাদী’ নাম ব্যবহার করলে অভিযোগকে বেশি গুরুতর ও ভয়ঙ্কর দেখানো যায়।
প্রশাসনের নজরে আসা বা আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত সরকারি প্যাকেজের সুবিধা পাওয়ার আশায় এমন কাজ করা হয় বলেও তদন্তকারী মহলের ধারণা। যদিও ওই আত্মসমর্পণ প্যাকেজ মূলত জঙ্গলের স্কোয়াডস্তরে সরাসরি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত সদস্যদের জন্যই প্রযোজ্য।
নির্বাচনের আগে অস্থিরতা তৈরি
ভোটের আগে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জেলায় প্রায়ই এই ধরনের পোস্টার উদ্ধার হয়। রাজনৈতিক পরিবেশ অশান্ত দেখানোর চেষ্টা থাকতেও পারে।
সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।










Post Comment