insta logo
Loading ...
×

সরাসরি বিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে মমতা-অভিষেককে কড়া জবাব মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাতোর

সরাসরি বিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে মমতা-অভিষেককে কড়া জবাব মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাতোর

সুইটি চন্দ্র , পুরুলিয়া:

“তোমরা পিসি-ভাইপো ভোটে দাঁড়াতে পারো, আর হামরা দাঁড়ালেই দোষ!” এভাবেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া জবাব দিলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাত। চুয়াড় বিদ্রোহের অমর শহিদ রঘুনাথ মাহাতর প্রয়াণ দিবসে কুড়মি সমাজের নয়া রাজনৈতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এখন সরগরম জঙ্গলমহল।
গত ২১শে মার্চ, শহীদ রঘুনাথ মাহাতর জন্মদিনেই অজিতবাবু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তিনি বিজেপির সঙ্গেই থাকছেন। ইতিমধ্যেই তিনি বান্দোয়ান, পাড়া, মানবাজার, কাশিপুর ও জয়পুর এলাকায় আদিবাসী কুড়মি সমাজের বৈঠক করে সরাসরি বিজেপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার ও নির্বাচনী কমিটি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে, জয়পুর কেন্দ্রে তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাত বিজেপির প্রার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। সমাজের একাংশের অভিযোগ, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি দীর্ঘদিনের কুড়মি আন্দোলনকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। তবে অজিতবাবুর দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আগামী পাঁচ বছর বিজেপির সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সমালোচনার পাল্টা জবাবে একান্ত সাক্ষাৎকারে অজিত প্রসাদ মাহাত স্পষ্ট জানান, বিগত দিনে ‘রেল টেকা’ কর্মসূচির সময় রাজ্য সরকার তাঁদের ওপর ব্যাপক শোষণ চালিয়েছিল। সেই বঞ্চনার প্রতিবাদেই তাঁরা মুরগুমার বৈঠক থেকে ‘নো ভোট টু টিএমসি’ ঘোষণা করেছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বামনিয়ায় জয়পুরের তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর সমর্থনে প্রচার সভা থেকে অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, “বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতো জয়পুর বিধানসভার বাসিন্দা নন, তিনি বহিরাগত। ” পাল্টা জবাব মূল মানতার। ” নন্দীগ্রামে মমতা যদি বহিরাগত না হন, তবে এখানে এমন প্রশ্ন কেন?”

এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই রবিবার ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের উকমাতে শহীদ রঘুনাথ মাহাতর মূর্তি উন্মোচন করা হয়। শহিদের প্রতি আবেগের পাশাপাশি, ওই মঞ্চ থেকেই কুড়মি সমাজের এই নয়া রাজনৈতিক বার্তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

Post Comment