insta logo
Loading ...
×

ফের বাঘ ! পুরুলিয়া সীমান্তে আতঙ্ক, সতর্ক বনবিভাগ

ফের বাঘ ! পুরুলিয়া সীমান্তে আতঙ্ক, সতর্ক বনবিভাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া :

পুরুলিয়া থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরে জঙ্গলে আবার বাঘ! বাঘ পিছু ছাড়ছে না পুরুলিয়ার। জিনাত বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই পুরুলিয়া সীমান্তে হানা দিল আরেক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

পুরুলিয়া সীমান্তে ঝাড়খণ্ডের সরাইখেলা-খরসোঁওয়া জেলার চৌকা থানার তুলগ্রামের বালিডি জঙ্গলে বাঘের আতঙ্ক। সরাইকেলা-খরসোঁওয়া বনবিভাগ, চান্ডিল রেঞ্জ আধিকারিককে চিঠি দিয়ে চান্ডিলের মহকুমা শাসক বাঘের উল্লেখ করে জানিয়েছেন ওই বন্যপ্রাণিকে ধরতে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হোক। ফাঁদ পেতে যাতে ধরা হয় সেই পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

সরাইখেলা-খরসোঁওয়া বনবিভাগ ও চান্ডিল রেঞ্জ ওই এলাকায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়েছে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। জিনাতের গলায় ছিল রেডিও কলার। কিন্তু এই বাঘের গলায় কোন রেডিও কলার নেই। ফলে তার অবস্থান জানতে পারছে না ঝাড়খন্ড বনদপ্তর।

প্রত্যক্ষদর্শী তুলগ্রামের বাসিন্দা সুমিত মাহাত নামে একটি বালক । মঙ্গলবার সকালে ওই বালক নিজের চোখে দেখে বালিডি জঙ্গলে দুটি গরুকে হামলা করতে। একটি গরু আহত। ওই গরুগুলির সঙ্গে ছিল একটি বাছুর। সেটি এখনও নিখোঁজ। ঘটনাস্থলে মিলিয়েছে চার পেয়ের পায়ের ছাপ। এই তথ্যগুলির ভিত্তিতে চান্ডিল মহকুমাশাসক বনদপ্তরকে চিঠি দেন।

এলাকাটি পুরুলিয়া লাগোয়া।বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই রাজ্যের বনবিভাগকে সতর্কতার বিষয়ে কিছু না জানালেও পুরুলিয়া বনবিভাগ এবং কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগ ঝাড়খন্ড লাগোয়া বেস কয়েকটি রেঞ্জগুলিকে সতর্ক করেছে। ঝাড়খন্ডের সরাইকেলা-খরসোঁওয়া ডিএফও সাবা আনসারি বলেন, ” পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে।”

তাহলে কি জিনাতের মতো ফের বাঘিনী? কোথা থেকে ওই বাঘিনী আসতে পারে সেই বিষয়েও সন্দিহান ঝাড়খন্ড বনবিভাগ।

মাইকে চলছে প্রচার। প্রত্যক্ষদর্শী বালকের বয়ান রেকর্ড করেছে বনদপ্তর। তাকে দেখানো হয়েছে লেপার্ড এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি। তাতে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবিতেই ইশারা করেছে সে। ঝাড়খণ্ড বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে জঙ্গলে যেখানে গরুটির মৃতদেহ পড়েছিল তার পাশে কয়েকটি পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি লম্বায় দশ সেন্টিমিটারের বেশি। ওই এলাকায় একটি জলাধার রয়েছে। নতুন বছরে সেখানে পর্যটকদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

যে বিষয়গুলো চিন্তায় রেখেছে বনদপ্তরকে সেগুলি হলো:

১) বন দপ্তরের তরফে পায়ের ছাপের মাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। যা দশ সেন্টিমিটারের বেশি। এর পরেই বিষয়টি চান্ডিল মহকুমা শাসককে জানানো হয়।

২) জঙ্গলে মৃত গরুর গলায় দাঁতের কামড় দেখা গেছে তা থেকে বনদপ্তরের স্পষ্ট ধারণা হচ্ছে যে সেটি বাঘ।

৩) লেপার্ড হলে সামনেই গাছের উপরে থাকা বালকটির উপর হামলা চালাতে পারত। কারণ লেপার্ড গাছে চড়তে পারদর্শী। কিন্তু বাঘ উঁচু গাছে চড়তে পারেনা।

৪) বন দপ্তর ও সাধারণ প্রশাসন সমগ্র ঘটনায় নিশ্চিত হয়ে তবেই বাঘের বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষজনকে মাইকিং করে সচেতন করছে।

৫) গুরুত্ব দিয়েই বসানো হয়েছে ট্র্যাপ ক্যামেরা।

জিনাত অধ্যায় শেষ হতে না হতেই ফের বাঘের আতঙ্ক দানা বেঁধেছে সীমান্তে। যে এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে তার থেকে পুরুলিয়ার সীমানা অর্থাৎ পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার দাঁতিয়া গ্রামের দূরত্ব সড়কপথে ২৪ কিলোমিটার। কিন্তু বাস্তব দূরত্ব মাত্র ১৫ কিমি।

পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, ” ঝাড়খণ্ডের তরফে আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোন বার্তা আসেনি। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি।”

Post Comment