নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। চলছিল চিকিৎসা। আর তারই মাঝে অমৃতলোকে পাড়ি দিলেন পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) রানা বিশ্বাস। শনিবার ভোরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭। রেখে গেলেন স্ত্রী ও কন্যাকে। কর্মঠ আমলার অকাল প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন করে টুইট করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন প্রয়াত আমলা একজন চমৎকার কর্মকর্তা এবং নিখুঁত ভদ্রলোক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত জেলা শাসকের ছবি দিয়ে শোক জ্ঞাপন করেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোও। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, “জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মন
খুব খারাপ। আমরা শোকাহত।

জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ থেকে তিনি কলকাতায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৩ তারিখ তিনি পুরুলিয়ার মানবাজারের হাতিপাথর এলাকায় ডব্লিউবিসিএস পদমর্যাদার আধিকারিকদের পিকনিকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর শরীরে জ্বর ছিল। তাঁর শরীর যে ক্রমশ হলদে হয়ে যাচ্ছিল এই বিষয়টি প্রথম নজরে আসে পুরুলিয়ার জেলাশাসক রজত নন্দার। তিনি তাঁকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন।২৪-২৫ জানুয়ারি তাঁর শরীরে বিলিরুবিন মাত্রা বেড়ে গেছে ধরা পড়ে। দ্রুত কলকাতায় ভর্তি করা হয় তাঁকে। প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ)-র পদ সামলাচ্ছিলেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সমস্ত কাজ জেলায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে পালন করছিলেন।
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘একাকী যাবো না, অসময়ে’। সে কথা রাখতে পারলেন না অতিরিক্ত জেলাশাসক। সহকর্মীদের বিষাদ সিন্ধুতে নিমজ্জিত করে ‘চিতাকাঠের ডাকেই’ সাড়া দিয়ে ফেললেন অসময়ে।











Post Comment