নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ বাংলাদেশি সন্দেহে মারধরের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরলেও আতঙ্ক কাটছে না ছত্তিশগড়ে আক্রান্ত পুরুলিয়ার চার পরিযায়ী শ্রমিকের। অন্য দিকে, একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চার নাবালক পরিযায়ী শ্রমিক এখনও বাড়ি ফেরেনি। কবে তারা ফিরবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারগুলির।
মঙ্গলবার রাতে আক্রান্ত শ্রমিকদের বাড়িতে যান পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন, জেলা চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো, শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার প্রমুখ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা আশ্বাস দেন যে, গোটা বিষয়টি স্বয়ং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নজরে রেখেছেন। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া মেনে নাবালকদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান নেতৃত্ব।
জানা গিয়েছে, সোমবার ছত্তিশগড়ের সুরজপুর জেলার কোতয়ালি থানার পুলিশ পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের বাসিন্দা দুই সহোদর শেখ আসলাম ও শেখ জসিম এবং শেখ বাবি ওরফে শরিফুল ও শেখ জুলফিকারকে বাসে তুলে দেয়। মঙ্গলবার সকালে তাঁরা ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে পৌঁছান। সেখান থেকে পুরুলিয়া মফস্বল থানায় এসে পুলিশের কাছে রবিবারের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন তাঁরা। পরে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে চারজনকেই নিরাপদে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে এখনও ছত্তিশগড়ের একটি সরকারি হোমে রয়েছে চেপড়ি গ্রামের শেখ সাহিল, তেঁতলো গ্রামের আরবাজ কাজী এবং আড়শা থানার ভুরশু গ্রামের কিশোর শেখ মিনাল ও শেখ ইসমাইল। অভিযোগ, রবিবার একটি পাউরুটি কারখানায় বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মারধরের ঘটনায় পুলিশ এই চার নাবালককে উদ্ধার করে সরকারি হোমে পাঠায়। দ্রুত তাদের বাড়ি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আপাতত অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটছে পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারগুলির। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে সবাই।











Post Comment