নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
আত্মহত্যা, না কি দুর্ঘটনা? প্রেমঘটিত কোনও জটিলতা, না কি আসন্ন পরীক্ষার চাপ, প্রশ্নের পর প্রশ্ন ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে এক মেধাবী ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরুলিয়া শহরের আমডিহা ছ’নম্বর ওয়ার্ডে একটি বহুতল আবাসনের নীচে পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার হয় এক তরুণ ছাত্রের দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আঠেরো বছর বয়সী মৃতের নাম প্রীতম সরকার। সে পুরুলিয়া জিলা স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। বাড়ি কেতকা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ওই বহুতল আবাসন থেকে পড়ে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে তার। তবে এটি আত্মহত্যা, না কি নিছক দুর্ঘটনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা।
মৃতের পরিবারের দাবি, প্রীতম আত্মহত্যা করতে পারে এমন কোনও কারণ তাঁরা দেখছেন না। মৃতের কাকা অদ্রীশ সরকার বলেন, “প্রীতম পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার মতো কোনও লক্ষণ আমরা দেখিনি। বাড়ি থেকে জেরক্স করাতে বেরিয়েছিল। যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেই আবাসন আমাদের সম্পূর্ণ অপরিচিত। ও সেখানে কেন গিয়েছিল, সেটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পুলিশ তদন্ত করে সত্যটা সামনে আনুক।”
প্রীতমের শিক্ষক সেখ মজফফর আলি জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সে ছিল অত্যন্ত প্রতিভাবান। “থার্ড সেমিস্টারে ১৯০ নম্বরের মধ্যে ১৮০ পেয়ে স্কুলে প্রথম হয়েছিল। আশা ছিল, বোর্ডেও র্যাঙ্ক করবে। গান গাইত অসাধারণ। নিজেদের বাংলা ব্যান্ড তৈরি করেছিল। টিভি চ্যানেলেও গান গাইতে গিয়েছিল। এমন একটি ছেলের হঠাৎ এই পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন,” বলেন তিনি।
প্রীতম বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা পীযূষকান্তি সরকার আপার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। কেতকা রামজীবন সরকার স্ট্রিটে তাঁদের বাড়ি। একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রীতমের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে কল লিস্ট ও চ্যাট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে। ওই আবাসনে কোনও বন্ধু, পরিচিত বা বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায়। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, প্রেমঘটিত কোনও বিষয় এর পিছনে থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ পরীক্ষার চাপের কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে পুলিশের বক্তব্য, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে











Post Comment