নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত আশা কর্মীদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা। আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্য কর্মী কন্ট্রাকচুয়াল ইউনিয়ন–এর ডাকে পুরুলিয়া জেলার শতাধিক আশা কর্মী লাগাতার কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন।
আন্দোলনরত আশা কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম ভাতা, ছুটি ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকেও তারা গ্রামবাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করে চলেছেন। কিন্তু সরকার তাদের ন্যায্য প্রাপ্য দিতে ব্যর্থ।
আশা কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন,
ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক সাম্মানিক ভাতা ঘোষণা না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
তাদের অন্যান্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, চার মাসের বকেয়া উৎসাহ ভাতা ও সমস্ত ইনসেন্টিভ অবিলম্বে মেটানো, মোবাইল কেনা ও ব্যবহারে শর্ত চাপানো বন্ধ, প্রতি মাসে ফুল রিচার্জ প্যাকের নিশ্চয়তা,
সরকার ঘোষিত সমস্ত ছুটি কার্যকর করা, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ইনসেন্টিভ দ্রুত চালু, ভাগে ভাগে ইনসেন্টিভ দেওয়ার প্রথা বন্ধ,
বছরে ২৪ দিনের ক্যাজুয়াল লিভ ও ৩০ দিনের মেডিকেল লিভ, মেটারনিটি লিভ ১৮০ দিন করা। এই কর্মবিরতির ফলে পুরুলিয়ার গ্রামীণ এলাকায় টিকাকরণ, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের নজরদারি, শিশু স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ,
“আমরাই সরকারের বার্তা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিই। অথচ আমাদের জীবন-জীবিকার কোনও নিশ্চয়তা নেই। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে।”
এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও লিখিত আশ্বাস না মেলায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় আশা কর্মীরা। দ্রুত আলোচনা না হলে পুরুলিয়া জেলায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তে পারে—এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন ইউনিয়ন নেত্রীরা।











Post Comment