insta logo
Loading ...
×

মানবাজারে সন্ধ্যার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় জনজোয়ার! অমিত শাহকে নিশানা করে পুরুলিয়ায় বাঘিনী-র হুঙ্কার

মানবাজারে সন্ধ্যার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় জনজোয়ার! অমিত শাহকে নিশানা করে পুরুলিয়ায় বাঘিনী-র হুঙ্কার

শুভদীপ মাহাত, মানবাজার :

বসন্তের মাতাল হাওয়ায় জঙ্গলমহল জুড়ে এখন পলাশের আগুন। আর সেই লাল রঙের উষ্ণ ছোঁয়াই যেন পুরুলিয়ার আপামর জনমানুষের আবেগে মিশে আছড়ে পড়ল রাজনৈতিক ময়দানে। শনিবার, ২৮শে মার্চ থেকেই পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটিতে শুরু হয়ে গিয়েছে হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনী প্রচার। নিতুড়িয়া ও কাশিপুরের পর, আজ রবিবার মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল ময়দানে মানবাজারের তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডুর সমর্থনে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় দেখা গেল এক অভাবনীয় জনস্রোত। প্রিয় ‘দিদি’-কে একঝলক দেখতে, তাঁর কপ্টার নামার মুহূর্তটি নিজেদের মোবাইলে বন্দি করতে এদিন সাধারণ মানুষ, বিশেষত গ্রামীণ মহিলাদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সভার শেষেও নেত্রীর কাছাকাছি পৌঁছানোর এক অদম্য তাগিদ লক্ষ্য করা যায় জনতার মধ্যে। ভিড়ের নিরিখে গতকালের রঘুনাথপুর এবং কাশিপুরকেও ছাপিয়ে গিয়েছে রবিবারের মানবাজার।

বিপুল এই জনসমুদ্রের উন্মাদনার মাঝেই এদিন চেনা মেজাজে ধরা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শনিবার খাস কলকাতায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি ‘জনতার চার্জশিট’ পেশ করে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রীর আঘাত ও ব্যান্ডেজ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। শাহের সেই ‘ভিকটিম কার্ড’ তত্ত্বের কড়া জবাব দিয়ে মানবাজারের মঞ্চ থেকে আক্ষরিক অর্থেই আহত ‘বাঘিনী’র মতো গর্জে ওঠেন মমতা। নাম না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চরম ভর্ৎসনা করে নেত্রী বলেন, “বলছে, আমি নাকি ভোটের সময় ব্যান্ডেজ নিয়ে ঘুরে বেড়াই। ওরে অপদার্থ, আমি মৃত্যুর মুখ থেকে বারবার ফিরে এসেছি। বিশ্বাস না হলে হাসপাতালে গিয়ে রিপোর্ট নাও”। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের পায়ে চোট এবং হুইলচেয়ারে প্রচারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “এটা শুধু চরিত্র হনন নয়, আমাকে কি মারার পরিকল্পনা করছ তোমরা? কিন্তু মনে রেখো, রাখে হরি তো মারে কে! অপরাধীরা ঠিক তাদের চিহ্ন ছেড়ে যায়”।

দিল্লির বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা এদিন আরও এক বিস্ফোরক আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জঙ্গলমহলে তৃণমূলের যে শক্ত ঘাঁটিগুলো রয়েছে, সেখানে ইচ্ছা করে অশান্তি পাকিয়ে পুনর্নির্বাচন করানোর গভীর চক্রান্ত করছে গেরুয়া শিবির। তবে পাথরকাটার মঞ্চ থেকে সেই ব্লু-প্রিন্ট ধূলিসাৎ করার ডাক দিয়ে জননেত্রীর জোরালো বার্তা, “দিল্লির এই সব চক্রান্ত আমরা ব্যর্থ করে দেব। আমার আর কোনো ক্ষমতা চাই না, আমি শুধু মানুষের ক্ষমতা চাই। এই লড়াইয়ে মানুষকে আমার সঙ্গে চাই”। পলাশের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারি আর মাঠে উপচে পড়া ভিড়, সব মিলিয়ে এই ভোটে ঘাসফুল শিবির যে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না, এদিন সেটাই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেল।

Post Comment