নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
অন্যের ঘাড় ভেঙে শাসক দলের শিক্ষক সংগঠনের পিকনিক! এমন অভিযোগ ঘিরে পুরুলিয়া জুড়ে তীব্র শোরগোল। দলীয় নির্দেশ অমান্য করেই বনভোজনের আয়োজন, এমন অভিযোগে অস্বস্তিতে শাসকদল।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ভোটের আগে কোনও পিকনিক নয়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই পিকনিক হবে। সেই নির্দেশের পুনরুক্তি করেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজ্য জুড়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি নেত্রীর সেই বার্তাই ফের মনে করিয়ে দেন।
তারপরও শাসক দলের শিক্ষক সংগঠনের পিকনিকের বিজ্ঞপ্তি ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিতর্কের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। রবিবার, ৪ জানুয়ারি হুড়ার ফুটিয়ারি ড্যামে বনভোজনের আয়োজন করা হয়েছে বলে একটি পোস্টার ও ব্যানার ছড়িয়ে পড়ে। সেই ব্যানার ঘিরেই জেলায় চাঞ্চল্য। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সংগঠনের অন্দরেই যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও।
অভিযোগ, পিকনিকের খরচ এক জায়গা থেকে তোলা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনের জেলা সভাপতি সোমনাথ কুইরি। তাঁর দাবি,” পিকনিক হচ্ছে না। আলোচনা করে সামান্য খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন মাত্র। সব কিছুই সংগঠনের রাজ্য সভাপতির অনুমোদন নিয়ে করা।”
তবে দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে এমন আয়োজন মেনে নিতে পারছেন না সংগঠনের একাংশ শিক্ষক। অনেকেই ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না বলে জানা যাচ্ছে। সংগঠনের রাজ্য সহ-সভাপতি তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি সত্যকিঙ্কর মাহাতো এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক।
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখছি, বিষয়টি কী।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “যেভাবে এই খরচ জোগাড় করা হয়েছে, তা মন থেকে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রত্যেকে ৭০-৮০ হাজার টাকা বেতন পাই। বনভোজন করতে গিয়ে অন্যের সাহায্য নিতে হবে, এটা ভাবতেই লজ্জা লাগে।”
ভোটের আগে দলীয় শৃঙ্খলা বনাম সংগঠনের ‘বনভোজন’, এই টানাপোড়েনে পুরুলিয়া রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কার উপর পড়বে দায়ের ভার?











Post Comment