insta logo
Loading ...
×

পুরুলিয়ায় খাদি মেলা, সারা বাংলা এখন চার্চ ময়দানে

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

শীতের আমেজে পুরুলিয়া শহরে শুরু হয়েছে জিইএল চার্চ মাঠে বার্ষিক খাদি মেলা। জেলার মানুষ থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের ক্রেতারা ভিড় করছেন গ্রামীণ শিল্প ও খাদ্যপণ্যের জন্য। চাল, পিঠে, বেতের আসবাব, হস্তশিল্প, পোশাক থেকে প্রাকৃতিক মধু—সব মিলিয়ে খাদি মেলা যেন গ্রামীণ বাংলার এক জীবন্ত প্রদর্শনী।

মেলায় সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধু, ইউক্যালিপটাস, লিচু ও করঞ্জ ফুলের মধু পাওয়া যাচ্ছে। খলিশা ফুলের মধুর দাম ৫০০ গ্রাম ২৬০ টাকা এবং ১ কেজি ৫০০ টাকা। নলেন গুড়ও টিউবে বিক্রি হচ্ছে, ১৫০ গ্রামের দাম ৭৭ টাকা। হস্তনির্মিত গয়না ৮০ থেকে ২৫০ টাকা, চুড়ি ১০০ টাকা ও কানের দুল ৫০ টাকায় ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
খাদি বোর্ডের নিজস্ব স্টলে রায়গঞ্জের বিখ্যাত তুলাইপাঞ্জি চাল এবারও ভালো সাড়া ফেলেছে। প্রতি কেজি দাম ২২৫ টাকা। স্টল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গতবছর চাহিদা এতটাই বেড়েছিল যে স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাকে ফিরতে হয়েছিল।

পিঠের স্টলগুলোও ক্রেতাদের ভিড় পেয়েছে। নদীয়া জেলার বিক্রেতারা সরষে পিঠে, নলেন গুড়ের দুধে তৈরি পাটি সাপটা, রস পিঠে, চন্দ্রপুলি, মালপোয়া ও ঝাল পিঠে নিয়ে এসেছেন। রসময় পিঠে ও পাটি সাপটার সর্বাধিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে।

মেলায় বেতের আসবাবও ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। জলপাইগুড়ি থেকে আনা এই হস্তনির্মিত বেতের সামগ্রী পূর্বে মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, কলকাতা ও কৃষ্ণনগরে প্রদর্শিত হয়েছে।
বীরভূম থেকে আনা নতুন ডিজাইনের পোশাক—ধুতি-প্যান্ট সেট, মলমলের স্কার্ট, লেডিস শার্ট, জেন্টস শার্টকেও ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

পুরুলিয়ার খাদি মেলা শুধুই কেনাকাটার স্থান নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি, স্বাদ ও শিল্পকলার এক মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।

Post Comment