নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে পুরুলিয়া শহরের রাজগড়িয়া ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত হল প্রগ্রেসিভ রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিসনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম জেলা সম্মেলন। এই সম্মেলনে জেলার প্রায় ৫০০ জন গ্রামীণ চিকিৎসক প্রতিনিধি ছাড়াও ভিন জেলা থেকে প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে উঠে আসে গ্রামীণ চিকিৎসকদের বর্তমান বাস্তবতা, তাদের কাজের সীমাবদ্ধতা ও সমাজে তাঁদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা। উপস্থিত নেতৃত্বরা স্পষ্টভাবে জানান, শহরের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যতই উন্নত হোক না কেন, আজও গ্রামীণ ভারতের বড় অংশের মানুষের প্রথম ভরসা গ্রামীণ চিকিৎসকরাই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌমেন বেলথরিয়া, হোসেন বাগচী সহ সংগঠনের একাধিক রাজ্য ও জেলা স্তরের নেতৃত্ব। বক্তারা বলেন, গ্রামাঞ্চলে জটিল রোগের প্রাথমিক চিহ্নিতকরণ, রোগীকে সঠিক সময়ে রেফার করা এবং জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে নিজেদের দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও বিশদ আলোচনা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্যাটেলার বিশ্বদেব কুমার জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্টিফায়েড তথ্য অনুযায়ী ভারতবর্ষের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ আজও গ্রামীণ চিকিৎসকদের উপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “দিনরাত পরিষেবা দিয়ে যাওয়া এই চিকিৎসকরাই গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার আসল ভরসা। অথচ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে এখনও বহু সমস্যা রয়ে গিয়েছে।” সম্মেলনে গ্রামীণ চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, আইনি সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ভবিষ্যতের আন্দোলন ও কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী দিনে এই দাবিগুলি সরকার ও প্রশাসনের কাছে সংগঠিতভাবে তুলে ধরা হবে বলেও জানান সংগঠনের নেতৃত্ব। সার্বিকভাবে এই জেলা সম্মেলন শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক বৈঠক নয়। বরং গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার এবং গ্রামীণ চিকিৎসকদের সম্মান ও স্বীকৃতির দাবিকে জোরালো করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠল।











Post Comment