insta logo
Loading ...
×

চলন্ত বন্দে ভারতে মুমূর্ষু যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পুরুলিয়ার চিকিৎসক

চলন্ত বন্দে ভারতে মুমূর্ষু যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পুরুলিয়ার চিকিৎসক

সুইটি চন্দ্র,পুরুলিয়া:


চলন্ত ট্রেনের বাথরুমের সামনে হঠাৎ পড়ে গিয়ে বিপজ্জনকভাবে রক্তচাপ কমে আসে। হার্ট রেট বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮। একজন মুমূর্ষু বৃদ্ধ যাত্রী যখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন, তখন মানবিকতার অনন্য নজির গড়লেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক তরুণী শল্য চিকিৎসক। যাঁর বাড়ি
পুরুলিয়া শহরের রেনি রোড দেবীমালায়। এই ঘটনাটি ঘটে নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে গত মঙ্গলবার।

৭০ বছর বয়সি অমল কুমার l যিনি উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা l পরিবার-সহ দার্জিলিং -এ বেড়াতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ব্লাড প্রেসার নেমে দাঁড়ায় ৯০/৭০-এ, পালস রেট অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বারবার বমি করতে থাকেন, কথা বলতে থাকেন অসংলগ্ন। উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়ে যায় তার পরিবার।

ঠিক সেই সময় ট্রেনের কামরায় রেলের মাইকে ঘোষণা করা হয়, “সি-নাইনে একজন যাত্রী অসুস্থ।
চিকিৎসক থাকলে অনুগ্রহ করে এগিয়ে আসুন।” সাড়া দেন ওই ট্রেনে থাকা চিকিৎসক ঐশ্বর্য রায় l তিনি ওই ট্রেনের সি-এইট কামরায় ছিলেন। তিনি আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের একজন অভিজ্ঞ শল্য চিকিৎসক।

লাটাগুড়িতে একটি চিকিৎসক সংগঠনের কনফারেন্স শেষে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে পরিবারের সঙ্গে ফিরছিলেন ঐশ্বর্য। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর ট্রাভেল ব্যাগে সবসময়ই প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম যেমন স্টেথোস্কোপ, ব্লাড প্রেসার মেশিন ও কিছু ওষুধ থাকে। সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি নিয়ে ছুটে যান অসুস্থ যাত্রীর কাছে। ঐশ্বর্য জানান, “বৃদ্ধটি ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। রক্তচাপ ছিল খুব কম, হার্ট রেট ছিল বিপজ্জনকভাবে বেশি। আমার কাছে যা ওষুধ ছিল, সেগুলি তাকে খাওয়াই। এবং পাশে বসে পর্যবেক্ষণে রাখি। ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়।”

রাত সাড়ে দশটা নাগাদ হাওড়া স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগে বৃদ্ধ নিজেই উঠে বসেন এবং চিকিৎসককে ধন্যবাদ জানিয়ে জানতে চান, তাকে কি হাসপাতালে যেতে হবে? ঐশ্বর্য বলেন, “আমি তাকে ইসিজি করানোর পরামর্শ দিই। তবে তখন তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন।”

এই ঘটনাকে জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত বলেই মনে করছেন আর জি করের চিকিৎসক ঐশ্বর্য রায়। তিনি বলেন, “এই দিনটি আমি কোনওদিন ভুলব না। অভয়া দিদি (স্বর্গীয় চিকিৎসক অভয়া রায়) থাকলে তিনিও ঠিক এমনটাই করতেন। আমরা শপথ নিই, যতদিন বাঁচি মানুষের পাশে থাকব।”

রেল কর্তৃপক্ষ, আরপিএফ এবং ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা চিকিৎসকের এই দ্রুত সাড়া ও মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অমল কুমারের পরিবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ওই তরুণী চিকিৎসকের প্রতি। পুরী- হাওড়া বন্দে ভারতে গত বুধবার এক যাত্রীর মৃত্যুর দুঃখজনক ঘটনার মাত্র একদিন পরেই এই উদাহরণ নতুন করে প্রমাণ করল মানবিকতার জয় হয় সবসময়ই।

Post Comment