নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
পুরুলিয়ার পুরনো গড় দখলে সেই বর্ষীয়ান শান্তিরামেই আস্থা রাখলো রাজ্য তৃণমূল। পুনরায় জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন করা হলো বহু যুদ্ধের সৈনিক শান্তিরাম মাহাতোকে। নতুন জেলা সভাপতি হলেন বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীব লোচন সরেন। রাজীব শব্দের অর্থ পদ্ম। বিজেপির পদ্মকে কি সামনের বছর বিধানসভা নির্বাচনে রুখে দিতে পারবেন তৃণমূলের পদ্ম? এই মস্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন দায়ভার সামলাবেন বান্দোয়ানের বিধায়ক।
এদিকে শান্তিরামই যে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের অগতির গতি তা আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন রাজ্য নেতৃত্ব। সেই ২০১০ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের যুগের আগে তিনি যখন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তখনই তাঁকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর তারপর ২০১০ এ পুর ভোটে প্রথম শুরু তৃণমূল ম্যাজিক। ২০১১তে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। মন্ত্রী হন শান্তিরাম। ঘোর বাম আমলেও তিনি ছিলেন বিধায়ক। ১৯৮২ সালে বাবা রামকৃষ্ণ মাহাতোর জেতা আসন জয়পুর বিধানসভা থেকে প্রথম বার যখন বিধায়ক হন তখন তিনি তিরিশও পার হননি। তারপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ পরপর দুবার এই বিধানসভা থেকে জয়ী হন শান্তিরাম মাহাতো। কংগ্রেসের টিকিটে ছিল এই জয়গুলি। এরপর ২০১১ সালে বলরামপুরে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন তিনি। ফের ২০১৬তে এই আসনে জয়লাভ করেন। ২০২১ সালে মাত্র ৪২৩ ভোটে পরাজিত হন তিনি।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বর্ষীয়ান শান্তিরামের ওপরেই বাজি রেখেছিল। দলের সাবোতাজ যে তাঁকে হারিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের অন্তর্তদন্তেই তা স্পষ্ট।
এবার কি রাজীব শান্তিরাম জুটি তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে জেলাময় ঘাসফুল ফোটাতে পারবে? প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে দামি।











Post Comment