পুরুলিয়া মিরর ডিজিটাল ডেস্ক
পুজোতেও কি বৃষ্টি? মহালয়ার মুখে প্রায় সপ্তাহখানেকের মধ্যেই দু’দুটো নিম্নচাপে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে পুরুলিয়ার মানুষজনদের মনে। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের জেরে বুধবার প্রায় ভোর রাত থেকেই বৃষ্টি পড়ছে। কখনও অবশ্য ঝিরঝিরে। আবার কখনও মুষলধারে। তবে গত মঙ্গলবারও জেলার কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়। কিন্তু এদিন সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভারে পুজোর আয়োজনে ভাটা। পুজোর শপিংয়ে যেমন প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেমনই প্রতিমা গড়ার কাজেও জেলার মৃৎশিল্পীরা বলছেন, চলতি নিম্নচাপ কেটে যাওয়ার পর আবার যদি পুরুলিয়ার আকাশে দুর্যোগ দেখা যায় তাহলে মাতৃপ্রতিমা তৈরিতে সমস্যায় পড়তে হবে। এদিনের বৃষ্টিতে শুধু পুজোর বাজার নয়। জেলার জনজীবনও ব্যাহত হয়। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবারও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হবে জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায়। কাল সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে। জেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাতের গড় ২২.২৬ মিলিমিটার। কৃষি দপ্তরের হাতোয়াড়া কেন্দ্রের নিরিখে পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকে বৃষ্টি হয়েছে ৪.৬, জয়পুরে ১০.২, ঝালদায় ২৫.২, বাঘমুন্ডিতে ১৮.২, মানবাজারে ৯২.৮, বলরামপুরে ৩২.২, বরাবাজারে ১২.২, নিতুড়িয়ায় ১১, সাঁতুড়িতে ১৪.২, পুঞ্চায় ৩৭, হুড়ায় ১২.২, কাশিপুরে ১৩.৪ ও পাড়ায় ৬.২ মিলিমিটার। চলতি মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত এই জেলায় অধিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৬.২ শতাংশ। অথচ জুনে এই অবস্থা ছিল না জেলায়। জুন শেষে প্রায় ৬০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। ফলে চিন্তায় ছিল কৃষি দপ্তর থেকে চাষিরা। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল গতবারের মতো এবারও পরিস্থিতি হবে না তো? কিন্তু আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরে বৃষ্টির ঝড়ো ইনিংসে ঘাটতি মিটিয়ে অধিক স্তরে নিয়ে গিয়েছে। এই বৃষ্টি আমন ধানের পক্ষে ভালো হলেও সবজি চাষে সর্বনাশ। সেই কারণেই প্রতিদিন কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে বিভিন্ন সবজির।এদিনের বৃষ্টিতে সমগ্র জেলা জুড়ে রাস্তাঘাটে যেমন লোকজন কম ছিল। তেমনই বাসে, ট্রেনে ভিড় ছিল একেবারেই কম। পুরুলিয়ার কাপড়গলি ছিল কার্যত ফাঁকা। প্রায় মাছি তাড়াচ্ছিল পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন শপিংমল। তৈরি হওয়া মাতৃপ্রতিমা বাঁচাতে বড় বড় পুরু ত্রিপল দিয়ে ঢেকে কোনরকমে বৃষ্টি থেকে বাঁচাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা।











Post Comment