বিশ্বজিৎ সিং সর্দার , কোটশিলা :
ভুয়ো ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সেজে ডাকাতির ঘটনায় ধৃত বিজেপির জয়পুর বিধানসভার আহ্বায়ক পরান চন্দ্র মাহাতোকে তোলা হলো পুরুলিয়া জেলা আদালতে। তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোতওয়ালি থানা এলাকার রাজাবাজার সংলগ্ন এলাকায় তাঁর এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়। বুধবার তাঁকে জেলা আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
অন্যদিকে এদিন পুরুলিয়া সংশোধনাগারে জেল হেফাজতে থাকা রাঁচির হরমু বাজার এলাকার বাসিন্দা শোভা কুমারী ওরফে গুড়িয়ার টি আই প্যারেড হয়। সংশোধনাগার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই অপরাধের দিন তার উপস্থিতি চিহ্নিত করার জন্য কোটশিলার বামনিয়া গ্রামের বাসিন্দা কিরিটি কুমারকে ডাকা হয়েছিল।
গত ৮ই এপ্রিল হিন্দি সিনেমা স্পেশাল ছাব্বিশ এর কায়দায় ডাকাতির ঘটনা সোরগোল তুলে দিয়েছিল পুরুলিয়ায়। কোটশিলা থানার বামনিয়া গ্রামে সোলজার বিড়ি মালিক কিরিটি কুমারের বাড়িতে এক দুঃসাহসিক ডাকাতিকে রূপায়িত করে ডাকাত দল। তদন্তে নেমে প্রথমে সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে ডাকাতির মাস্টার মাইন্ড ধৃত পরান ও স্থানীয় মহিম কুমার। সঙ্গে তারা তিনজন মহিলাকে রেখেছিলেন যাতে ইনকাম ট্যাক্স রেইড একেবারে আসল মনে হয়।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, অপারেশনের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড রাঁচির বুন্ডু শহরের বাসিন্দা সিআরপিএফের জওয়ান পরেশ দাস। বর্তমানে তিনি খুঁটি এলাকায় ৯৪ ব্যাটেলিয়নে কর্মরত। ছুটিতে এসে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটান তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে সি আর পি এফ জওয়ানের অন্যতম সহযোগী বিজেপি নেতা পরান ও ব্যবসায়ী মহিম।
পুরুলিয়া পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায় বলেন,” পরান চন্দ্র মাহাতো বিজেপির একজন জেলা নেতা বলে নিজেকে দাবি করছেন। এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে ওই ব্যক্তি ডাকাতির পূর্বে একাধিকবার ঝাড়খন্ডে গিয়ে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অপারেশনের জন্য অর্থও জোগান দেন তিনি।”
পুলিশ খতিয়ে দেখছে সিআরপিএফ জওয়ান – বিজেপি নেতার এই দুস্কর্মে আরও কোনো প্রভাবশালী আছে কি না।










Post Comment