দেবীলাল মাহাত, পুরুলিয়া :
দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছে পুরুলিয়া ১নং ব্লকের পটমপুটরা গ্রামের বাসিন্দারা। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর গ্রামে ঢোকার সম্পূর্ণ রাস্তা পাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে দেখে খুশি গ্রামের সকলেই।
পুরুলিয়া ১নং ব্লকের গাড়াফুসড়ো গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম পটমপুটরা। গ্রামের ঢোকার মুখেই রয়েছে ছোট্ট নদী বাঁকাজোড়। দু’দশক ধরে জমি জটে আটকে রয়েছে রাস্তার কাজ। জোড়ের উপর তৈরি হয়েছিল দু’দুটি সেতু। একটি বাম আমলে। অপরটি ২০১৬ সালে বর্তমান সরকারের আমলে। কিন্তু দুটি সেতুরেই জমি জটে সংযোগকারী রাস্তা তৈরি না হওয়ায় গ্রামে ঢোকার রাস্তা পাননি গ্রামের বাসিন্দারা। তাই সেতু তৈরি হলেও সংযোগকারি রাস্তার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্লক থেকে জেলাশাসক দপ্তরে আন্দোলন করে আসছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে গ্রামবাসীদের । ব্লক প্রশাসনের প্রচেষ্টায় গ্রামে ঢোকার বিকল্প রাস্তা ও সেতু পাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। গাড়াফুসড়ো অঞ্চলের গঠরট্যাড় দিয়ে কংসাবতী নদীর পাশ দিয়ে গ্রামে ঢোকার নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে। রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বাঁকা জোড়ের উপর আবার একটি নতুন সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেই সেতুর কাজ বর্ষার আগেই শেষ হয়ে যাবে। তারপর আর রাস্তার সমস্যা থাকবে না গ্রামের বাসিন্দাদের। জোড়ের উপর সেতুটি তৈরি হলে সুবিধা হবে আড়শা ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষদেরও।
পটমপুটরা গ্রামের বাসিন্দা স্বপন মাহাত, অম্বরীশ মাহাত জানান, ” রাস্তা না থাকার ফলে, বর্ষাকালে সমস্যা চরমে ওঠে। রোগী সহ ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক সমস্যা হয়। সেতুর কাজটি শেষ হলেই আর আমাদের সমস্যা থাকবে না।” গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন মাহাত জানান, “অনেক দিন ধরে আমরা রাস্তার জন্য আন্দোলন করে আসছি । গ্রামে যাওয়ার নতুন রাস্তা তৈরি হওয়ায় সকলেই খুশি।”
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে , রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে বাঁকা জোড়ের উপর সেতুর কাজ চলছে। বর্ষার আগেই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
Post Comment