insta logo
Loading ...

গোশালা হত্যাকাণ্ডের নয়া মোড়

গোশালা হত্যাকাণ্ডের নয়া মোড়

বিশ্বজিৎ সিং সর্দার , পুরুলিয়া:

পুরুলিয়া শহরের গোশালা রেল কালভার্টের নিচে পড়েছিল যুবকের লাশ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের সেই ঘটনায় আরও একজন যুবককে গ্রেফতার করলো পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম বিক্রম পান্ডে ওরফে গোলু। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তিনজনকে। তার মধ্যে দুজন বিক্রমের দিদি চুমকি পাণ্ডে ও কুমকুম পাণ্ডে। অন্য আরেকজন চুমকির বন্ধু ইমরান আনসারি। খুনের ঘটনার পর গোলু তামিলনাড়ুতে একটি বেসরকারি কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিল। তবে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ তদন্তে নেমে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানতে পেরেছে হত্যার মোটিভ হলো ত্রিকোণ প্রেম। লাভ ট্রায়েঙ্গেলের জেরেই খুন করা হয়েছিল পুরুলিয়া শহরের নডিহা মিষ্টি মহল এলাকার বাসিন্দা যুবক সুরেশ সূত্রধর (২২)কে।

২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে গোশালা রেল গেটের অদূরে একটি কালভার্টের কাছে দীর্ঘক্ষণ ধরে একটি মোটর বাইক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকার মানুষজনের। খবর পেয়ে পৌঁছায় পুলিশ। খোঁজ শুরু করার পর পরদিন মঙ্গলবার কাকভোরে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ওই যুবকের দেহটি উদ্ধার করে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। মৃতের মুখে ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশ অনুমান করেছিল তাকে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মৃতের বাবা স্বপন সূত্রধর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার ভিত্তিতে সদর থানার পুলিশ ৬ জনের নামে ও অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে খুন ও প্রমাণ লোপাটের ধারায় মামলা রুজু করে। স্বপন সূত্রধর জানিয়েছিলেন, সোমবার তার ছেলে মোটর বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তার পর মঙ্গলবার ভোর রাতে পুলিশের কাছ থেকে ঘটনার খবর জানতে পারেন তিনি।

তদন্তে নেমে তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে পারেন ত্রিকোণ প্রেমের বলি হয়েছেন ওই যুবক। তাঁরা জানতে পারেন ওই যুবকের সঙ্গে একটি মেয়ের প্রেম ছিল। সম্প্রতি তাদের মাঝে ঢুকে পড়ে ইমরান। ইমরানের কারণে সুরেশকে আর পাত্তা দিচ্ছিল না ওই তরুণী। অভিযোগ, দিন কয়েক আগে এই নিয়ে সুরেশ ও ইমরানের মধ্যে ঝামেলাও হয়। আর তারই পরিণতি সুরেশের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। পুলিশী তদন্তে জানা গিয়েছিল, ওই যুবককে ডেকে নিয়ে গিয়ে পাথর দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে খুন করা হয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি রেলের কালভার্টে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের দুদিনের মধ্যে পুলিশ পুরুলিয়া শহরের চুনাভাট্টি এলাকার চুমকি পাণ্ডে,তার দিদি কুমকুম পাণ্ডে ও পুরুলিয়া মফস্বল থানার বাঘড়া গ্রামের ইমরান আনসারিকে গ্রেফতার করে। এবার তামিলনাড়ুর একটি বেসরকারি কারখানা থেকে গ্রেফতার করে আনা হলো গোলু পান্ডেকে। বুধবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

Post Comment