বিশ্বজিৎ সিং সর্দার, বলরামপুর:
নিমগাছে ধরেছে পলাশ!
একেই বলে ঘোর কলি!
পলাশ পর্যটনে এবার ট্রেন্ডিং হতে চলেছে পুরুলিয়ার এই ‘নিম পলাশ’?
শাল পলাশের জেলা পুরুলিয়া। বসন্তের ছোঁয়ায় পুরুলিয়ার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লক্ষ্য করা যায়।
পাহাড় থেকে পলাশের রং দেখলে মনে হয় জঙ্গলে আগুন লেগেছে। ফাগুনে আগুনে লাল আচ্ছাদনে ঢেকে যায় জঙ্গলমহল পুরুলিয়া। পলাশের সৌন্দর্য দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকেরা পুরুলিয়ায় ছুটে আসেন। পলাশ পর্যটনে জমজমাট হয়ে ওঠে পুরুলিয়া।
লাল পলাশের পাশাপাশি, এখানে দেখা মেলে হলুদ পলাশ এবং বিরলপ্রায় শ্বেত পলাশেরও। অন্যদিকে প্রকৃতির ইচ্ছেয় পুরুলিয়ার কিছু পাহাড়তলির গ্রামে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বনলতা পলাশ। এবার কি পলাশ পর্যটনে এই বনলতা পলাশ হতে চলেছে ট্রেন্ডিং? এই বনলতা পলাশের দেখা মিলেছে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার অন্তর্গত ঘাটবেড়া অঞ্চলের খুনটাঁড় জঙ্গল এলাকায়।
কী এই বনলতা পলাশ? খুনটাঁড়ের বাসিন্দা মহেশ্বর সিং সর্দার জানান, “এই বনলতা পলাশ এক ধরনের বিরল পরগাছা বা লতা জাতীয় উদ্ভিদ, যা সাধারণত অন্যান্য গাছের ওপর ভর করে বেড়ে ওঠে। এটি দেখতে সাধারণ পলাশ গাছের মতো নয়, বরং লতার মতো গাছের গায়ে, গাছের কান্ডে জড়িয়ে বেড়ে ওঠে।
এর পাতা সাধারণত পলাশের পাতার মতো হলেও আকারে কিছুটা ছোট। ফুল সাধারণত উজ্জ্বল লাল রংয়ের হয়ে থাকে। তবে এর রঙ পরিবেশভেদে ভিন্ন হতে পারে।
সাধারণত পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে দেখা যায়। এটি প্রধানত পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় ও ওড়িশার কিছু অংশে পাওয়া যায়।”
বনলতা পলাশ পরগাছা উদ্ভিদ। অর্থাৎ এটি নিজে মাটি থেকে শক্তভাবে বেড়ে ওঠে না, বরং অন্য গাছের সহায়তায় বেঁচে থাকে। আর তাই খুনটাঁড় গ্রামে নিম গাছকে অবলম্বন করে মাথা তুলেছে সেটি। ফুটেছে ফুল। মনে হবে যেন নিম গাছে ধরেছে পলাশ! মনে করা হচ্ছে এবছর পলাশ পর্যটনে এই অঞ্চলের জঙ্গল বৈচিত্র্যে অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে এই বনলতা পলাশ।





Post Comment