বিশ্বজিৎ সিং সর্দার, পুরুলিয়া :
খোদ সন্ন্যাসী যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মহাকুম্ভের পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত ৩ পুণ্যার্থী গৃহবধূর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল না সেই ইউপি-র সরকারকে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মহাকুম্ভ থেকে তাদের মৃতদেহ ফিরে এলো পুরুলিয়ার টামনা থানার গোপলাডিতে। যে অ্যাম্বুলেন্সে করে দেহগুলি আনা হয়েছে, তার ভাড়া ৩৯ হাজার টাকা। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সেই টাকা দেওয়া হবে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের তহবিল থেকে।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রয়াগরাজ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল অ্যাম্বুলেন্সটি।
বুধবার সকাল ন’টা নাগাদ এসে পোঁছায় গ্রামে। ওঠে কান্নার রোল। হতদরিদ্র পরিবারগুলির হাতে সমব্যাথী প্রকল্পে অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার জন্য পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লক প্রশাসনের তরফে ২ হাজার করে মোট ৬ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়। পুরুলিয়া ১ নং ব্লকের বিডিও মনোজকুমার মাইতি বলেন, “রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে দুর্ঘটনায় নিহতদের মৃতদেহ প্রয়াগরাজ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া আমরা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতর থেকে প্রদান করব। “
নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো প্রমুখ।
চাকলতোড়ের যে ট্যুর অপারেটর কুম্ভস্নানে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই বিষ্ণু গোপ বলেন, “ওখানকার স্থানীয় থানার ওসি আমাদেরকে কেবল ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া লেগেছে মোট ৩৯ হাজার টাকা। অ্যাম্বুলেন্সে তিন মহিলার মৃতদেহ সহ আমি ও মৃত জাগরী মাহাতোর স্বামী কৃষ্ণকিশোর মাহাতো, মৃত কুন্তি মাহাতোর ছেলে তথা আলপনা মাহাতোর স্বামী বাবুলাল মাহাতো ছিলাম। “
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো মহাকুম্ভ মেলা ঘিরে যোগি সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে বলেন, “মহাকুম্ভ নগরীতে প্রথম থেকেই অব্যবস্থা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এত যানজট হচ্ছে। মানুষের ধৈর্যেরও তো সীমা থাকে।”
সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেছেন, “মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। আমাদের কারও মন ভালো নেই। নিহতদের পরিবারগুলির পাশে আছি আমরা।”










Post Comment