সুইটি চন্দ্র,জয়পুর:
জয়পুরে তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাতো যদি জেতে, জয়পুরকে ডায়মন্ড হারবার মডেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি অভিষেকের। জয়পুরের বামনিয়া ডাক বাংলো মাঠে আয়োজিত প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা তুলে ধরলেন।
অভিষেক বলেন, অর্জুন মাহাতো একজন তরুণ ও সংগ্রামী নেতা। ছাত্র-যুব রাজনীতি থেকে উঠে এসে মানুষের জন্য কাজ করছেন তিনি। তিনি দাবি করেন, জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে অর্জুন উন্নয়নমূলক কাজে ১০০ শতাংশ তহবিল ব্যয় করে নজির গড়েছেন। সভা থেকে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিরোধী প্রার্থী এলাকার বাসিন্দা নন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে প্রার্থী হয়েছেন। পিতা অজিত প্রসাদ মাহাতোর পরিচয়ে তাঁর পরিচয়। নিজের কোন যোগ্যতা নেই। শুধু তাই নয়, ভোট ঘোষণার ১০ দিন আগে দিল্লি গিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে নিজের ছেলের জন্য সিট সেটিং করে এসেছিলেন অজিত প্রসাদ মাহাতো, এমন অভিযোগও তোলেন অভিষেক। বলেন, কুড়মি সমাজের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ছিনিমিনি খেলেছেন অজিত বাবু।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, বিজেপি তাদের উন্নয়নের “রিপোর্ট কার্ড” দেখাতে পারলে তিনি আর ভোট চাইতে আসবেন না। রাজ্যের উন্নয়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে এখানে লোডশেডিং ছিলো। নিরাপত্তার অভাব ছিল। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বড় সাফল্য বলে দাবি করেন তিনি।
কুড়মি সম্প্রদায়ের দাবির প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক জানান, তাদের তপশিলি জনজাতি তালিকাভুক্তির সুপারিশ রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রকে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতেও রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
জয়পুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তালিকা তুলে ধরে তিনি জানান,” এলাকায় নতুন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রাস্তা, কিষাণ মান্ডি ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘বাংলার বাড়ি’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার গঠিত হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু থাকবে, প্রতিটি পরিবারকে পরিশ্রুত জল দেওয়া হবে, ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির করা হবে, বার্ধক্য ভাতা দ্রুত দেওয়া হবে এবং সকল যোগ্য মানুষকে পাকা বাড়ি দেওয়া হবে”। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, জল জীবন মিশনের তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে রাজ্য সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সভা শেষে তিনি জয়পুরবাসীর কাছে আবেদন জানান, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অর্জুন মাহাতোকে জয়ী করতে হবে এবং চতুর্থবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।









Post Comment