insta logo
Loading ...
×

স্কোয়াল ফ্রন্টের দাপট, পুরুলিয়ায় বৃষ্টিতে কমল তাপমাত্রা

স্কোয়াল ফ্রন্টের দাপট, পুরুলিয়ায় বৃষ্টিতে কমল তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

ঝড়-বৃষ্টির যে ছবি প্রায় রোজই দেখছেন তা আদতে কালবৈশাখী নয়, স্কোয়াল ফ্রন্ট। তার প্রভাবেই মঙ্গলবার ভিজল পুরুলিয়া। এই বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রাও খানিকটা নেমেছে। ৩১ মার্চ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৯.৪ ডিগ্রি।

কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ দিন জেলার গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০.১১ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বাঘমুণ্ডিতে—৩৮.২ মিমি এবং বলরামপুরে ৩৪.১ মিমি। এছাড়া পাড়ায় ১৪.৬ মিমি, বরাবাজারে ১৩.২ মিমি, ঝালদা ও নিতুড়িয়ায় ৭.৪ মিমি করে বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। কাশিপুরে ৫.৪ মিমি, হুড়ায় ৩.৬ মিমি, জয়পুরে ৩.৫ মিমি এবং সাঁতুড়িতে ৩.০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। হাতোয়াড়ায় ১.০ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মানবাজার ও পুঞ্চায় বৃষ্টির দেখা মেলেনি।

জানেন কি, স্কোয়াল ফ্রন্ট আসলে কী?

আবহাওয়াবিদদের মতে, স্কোয়াল ফ্রন্ট আবহাওয়ার এমন একটি সরু রেখা বা অঞ্চল, যেখানে আচমকা তীব্র ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ এবং স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র বৃষ্টিপাত একসঙ্গে ঘটে। এটি সাধারণত উষ্ণ ও ঠান্ডা বায়ুর সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়।

কালবৈশাখীর মতো বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে স্কোয়াল ফ্রন্ট সাধারণত অপেক্ষাকৃত দ্রুত অগ্রসর হয় এবং কম সময়ের মধ্যে তীব্র প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ঝড়ের আগে আচমকা দমকা হাওয়া বা স্কোয়াল বইতে শুরু করে, তারপর অল্প সময়ের জন্য প্রবল বৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার পুরুলিয়ার ক্ষেত্রেও ঠিক এই ছবিটাই দেখা গিয়েছে। দুপুরের পর হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়, তার পরেই নেমে আসে বৃষ্টি। তবে ঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল তুলনামূলক কম।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চের শেষ দিকে তাপমাত্রা বেশি থাকায় বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা বাড়ে। সেই কারণেই কখনও কালবৈশাখী, আবার কখনও স্কোয়াল ফ্রন্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

Post Comment