নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
জঙ্গলমহলের ভোট-ময়দানে এবার পালটা দানে কিস্তিমাত করার নিখুঁত রাজনৈতিক কৌশল নিল রাজ্যের শাসকদল। সদ্যই ঘাসফুলের টিকিট না পেয়ে ঝাড়খণ্ডের দল জেএলকেএম-এর হাত ধরেছিলেন জয়পুর রাজপরিবারের সদস্য দিব্যজ্যোতি সিং দেও। কিন্তু টাইগার জয়রাম মাহাতর সেই দল বঙ্গে যে বিশেষ ম্যাজিক দেখাতে পারবে না, তা প্রমাণ করে দিল তৃণমূলের পালটা চাল। সোমবার বাঘমুণ্ডিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন খোদ জেএলকেএম জেলা সভাপতি (পশ্চিমাঞ্চল) গোপাল মাহাত। জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের মুখে তৃণমূলের এই ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ বঙ্গে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল ঝাড়খণ্ড টাইগারের রথ।
সোমবার বাঘমুণ্ডি বিধানসভার ঝালদা ১ ব্লকের ইচাগ কেন্দুয়াডি ১০৮ কুঞ্জ ময়দানে দলীয় প্রার্থী সুশান্ত মাহাতর সমর্থনে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হাই-ভোল্টেজ মঞ্চেই অভিষেকের উপস্থিতিতে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন গোপালবাবু। একসময় আদিবাসী কুড়মি সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ গোপাল মাহাত বর্তমানে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজের সদস্য। জেএলকেএম তাঁকে পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিলেও, শোনা যাচ্ছিল বাঘমুণ্ডি আসনে তাঁকে প্রার্থী না করাতেই তাঁর এই অভিমান ও দলবদল। নিজের ক্ষোভ নিয়ে খুব বেশি মুখ না খুললেও, জেএলকেএম-এর ভঙ্গুর দশা নিয়ে গোপাল মাহাতর স্পষ্ট মন্তব্য, “ঝাড়খণ্ডের একটি রাজনৈতিক দল পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বিস্তার করতে চাইছে ঠিকই, কিন্তু এর জন্য যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তার চরম অভাব রয়েছে। তাই তারা নিজেদের অনুগামীদেরও ধরে রাখতে পারছে না”। ভোটের ঠিক মুখে ভিন রাজ্যের দলের খোদ জেলা সভাপতিকে নিজেদের শিবিরে টেনে জঙ্গলমহলের সমীকরণে তৃণমূল যে বড়সড় ফায়দা তুলল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে এদিনই তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন কুড়মি সমাজের ঝালদা ১নং ব্লক সভাপতি ভদ্রদুলাল মাহাতো।










Post Comment